পতেঙ্গায় চাঁদাবাজির ‘দানব’ কৃষক দল নেতা আলমগীর
৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম পতেঙ্গায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির ত্রাস সৃষ্টি করেছেন মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলমগীর। খেয়াঘাট থেকে চোরাচালান—সবখানেই তার নিয়ন্ত্রণ।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাদিয়া ইসলাম (২৩) নামের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার সাদিয়া ইসলাম নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে এবং তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি শহরের কুড়পাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছিলেন সাদিয়া। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকায় আরও এক ব্যক্তির কাছ থেকে পুনরায় টাকা তুলতে গেলে স্থানীয় জনতা তাঁকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।
এই ঘটনায় ওই দিন রাতেই পৌর শহরের বলাইগুয়া এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী সুমনের স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী প্রিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, “আমিসহ অন্তত পাঁচজনের কাছ থেকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন সাদিয়া। মঙ্গলবার বিকেলে অন্য এক নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে।”
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে এনসিপির এক নেত্রীকে আটকের কথা তাঁরা শুনেছেন। সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখনো সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি এ ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার ও কাউকে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান দাবি করেন, বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। এটি কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তবে কেউ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সাদিয়া ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা প্রতারণার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।