ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ‘ডলার’ গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে রাজনৈতিক মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এ বি এম রাশেদুল হাসান ওরফে ‘ডলার’-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার: যৌন নিপীড়ন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার কিশোর-কিশোরী এবং তরুণদের সুরক্ষাসেবা আরও সহজলভ্য ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারে একটি বহুপক্ষীয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের ‘স্বপ্নের সারথি’ (সিসোর গার্লস ইনিশিয়েটিভ) প্রকল্পের আওতায় এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শহরের হোটেল সি প্যালেস লিমিটেডে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সরকারি সংস্থা, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং তরুণ নেতৃত্বাধীন সংগঠনের প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
সভায় কক্সবাজারে সহিংসতার শিকার কিশোর-কিশোরীদের জন্য চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, নিরাপদ আশ্রয় কিংবা আইনি সহায়তার মতো জরুরি সেবাগুলো কীভাবে আরও দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভুক্তভোগীদের যাতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে জন্য একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বিগত বছরের সার্ভিস ম্যাপিং কার্যক্রমের তথ্য পর্যালোচনা করে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসন সেবায় বিদ্যমান বিভিন্ন ঘাটতির চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কক্সবাজারে সক্রিয় ভিকটিম সাপোর্ট কল সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কক্সবাজার সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বৈষম্য দূরীকরণে পুরুষ ও তরুণদের সচেতনতা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আমাদের আশাবাদী করে তুলছে। সমাজসেবা বিভাগের আওতাধীন সেবার বাইরে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে সেবাপ্রার্থীকে যথাযথ প্রতিষ্ঠানের কাছে কার্যকরভাবে রেফার করতে হবে। কোনো সেবাপ্রার্থীকে উপেক্ষা বা অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখার সুযোগ নেই।”
ইউনিসেফ বাংলাদেশের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমাজ, সামাজিক সম্পর্ক ও জেন্ডার বৈষম্যের বাস্তবতা বুঝে কাজ করতে হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব সেবা হতে হবে শিশুবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য।”
সভায় স্বাস্থ্য, মনোসামাজিক সহায়তা, নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তাকে সমন্বিত করে ‘এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজ’ (ইএসপি) এবং ‘অ্যাকাউন্টেবিলিটি টু অ্যাফেক্টেড পপুলেশনস’ (এএপি) নীতির আলোকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা তাদের জন্য নির্ধারিত সেবাব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত দেওয়া এবং প্রয়োজনে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবে।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা আগামী ১২ মাসে কক্সবাজারে যুববান্ধব পিএসইএ (যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষা) ও জিবিভি (জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা) সহায়তা আরও শক্তিশালী করতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি এসব অগ্রগতির তদারকির জন্য একজন ফোকাল পয়েন্টও নিয়োগ করা হয়। উল্লেখ্য, সভা আয়োজনে পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড (ইএসএস) অনুসরণ করা হয় এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজগম্য করার পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত রাখা হয়।