রাজধানীর ধানমন্ডিতে এপেক্স ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট
রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এপেক্স ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মব বা সংঘবদ্ধভাবে গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন সহকারী শিক্ষক শাহ আলম।
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এমরান হোসাইন চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এর ফলে দীর্ঘ ২২ দিন কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন এই শিক্ষক।
জামিনে মুক্ত হয়ে শিক্ষক শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, “বিনা অপরাধে মব করে ফাঁসিয়ে আমাকে কারাগারে পাঠিয়েছিল কিছু কুচক্রী মহল।” বিজ্ঞ আদালতের প্রতি অবিচল আস্থা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালত একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর প্রতি ন্যায়বিচার করেছেন। পাশাপাশি, ঘটনার সত্যতা তুলে ধরে শুরু থেকে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশ করায় গণমাধ্যমের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গত ১৮ আগস্ট সকালে কালীগঞ্জের বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একদল লোক প্রবেশ করে সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে অবরুদ্ধ করে মারধর ও গণপিটুনি দেয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গণপিটুনিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার দিনই কালীগঞ্জ উপজেলা ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সমন্বয়ে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কালীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ এম রোকনুজ্জামান জানান, বিষয়টি যেহেতু বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই তদন্তের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হয়নি। তবে এ সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালকের (ডিজি) নির্দেশক্রমে দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের পক্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিযোগ তুলে একটি সাদা কাগজে হাতে লেখা স্বাক্ষরবিহীন চিঠি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ থাকলেও ছাত্রীকে ওয়াশরুমে নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুনির্দিষ্ট উল্লেখ ছিল না।
শুরু থেকেই শিক্ষক শাহ আলম নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করে আসছেন। আদালতের জামিন আদেশের পর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।