মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে তেলের পর এবার রেকর্ড দামে ইউরোপে গ্যাস সংকট
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলও ১০১ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক: লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর আল-মাখা বা মোচা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের তীব্র সামরিক চাপ এবং আঞ্চলিক নানা কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও হুথিদের এই অগ্রযাত্রা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের তীরে হুথিরা আল-মাখা দখল করে থাকলে তা তাদের জন্য একটি বড় ধরনের সামরিক বিজয়। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই সতর্ক করে বলেছেন, হুথিরা যদি তাইজ ও আল-মাখার মধ্যকার প্রধান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়, তবে তা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে।
বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, হুথিরা যদি মোচা বা আল-মাখা পুরোপুরি দখলে রাখতে পারে, তবে লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনের প্রায় পুরো উপকূলীয় এলাকাই তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এর ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য আরও সহজ হয়ে উঠবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির প্রস্থ যেখানে প্রায় ৫০ কিলোমিটার, সেখানে বাব আল-মান্দেব প্রণালি মাত্র প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত। ফলে হুথিরা চাইলে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা ছাড়াও কেবল কামানের সাহায্যে এই প্রণালির ওপর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে সরাসরি আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ালে তা কেবল সৌদি আরব নয়, বরং গোটা বিশ্বের আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য এক মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
হুথিদের এই অপ্রতিরোধ্য গতি রোধ করতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি মিত্ররা। হুথিরা ইয়েমেনে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত রাখলে পরিণতি ভালো হবে না বলে ইরানকে সতর্ক করেছে পাকিস্তান। এমনকি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যকার ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রয়োজনে কার্যকর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই মনে করেন, হুথিদের ওপর ইরানের ব্যাপক রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাব থাকলেও তারা কেবল তেহরানের প্রক্সি হিসেবে যুদ্ধ করছে না; বরং নিজেদের সুনির্দিষ্ট কৌশল ও লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তারা মাঠে রয়েছে। পাকিস্তান বা তুরস্ক যৌথভাবে ইরানের ওপর চাপ বাড়ালেও তেহরানের দিক থেকে এর বড় কোনো প্রভাব হুথিদের ওপর পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলো দীর্ঘকাল ধরেই বহির্বিশ্বের সহায়তা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং তারা নিজেদের মজুত অস্ত্র ও সক্ষমতা দিয়েই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
সবমিলিয়ে, আল-মাখা দখল এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে হুথিদের একাধিপত্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।