দক্ষিণ আফ্রিকায় ২ মিনিবাস ও কারের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২১
ক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের এন-১ মহাসড়কে ২ মিনিবাস ট্যাক্সি ও কারের ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২১ জন।
তথ্যবিজ্ঞান ও প্রত্নতত্ত্ব ডেস্ক: হাজার বছরের বালুচাপা পড়া হাজারো রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু মিসরের গিজার ‘গ্রেট পিরামিড’। কোটি টন পাথরের স্মৃতিস্তম্ভটির কেবল ভৌগোলিক নির্মাণশৈলীই নয়, বরং এর উচ্চতা ও ভিত্তির মাপে লুকিয়ে রয়েছে এক অতিপ্রাকৃতিক ও মহাজাগতিক সংখ্যাপদ্ধতি। সম্প্রতি স্বাধীন গবেষক সেফি লেভির প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে, প্রাচীন মিসরীয় স্থপতিরা কোনো লিপি খোদাই না করেই পিরামিডের দৈহিক গঠন ও অনুপাতের মাধ্যমে মহাজাগতিক এক সংকেত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
অমর জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিতের জ্ঞানকে পাথরে মূর্ত রূপ দিতেই পিরামিডের নকশা করা হয়েছিল বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সংখ্যার রহস্যময় মিলমূলধারার মিসরতত্ত্ববিদরা (Mainstream Egyptologists) গিজার পিরামিডকে ফারাও খুফুর সমাধিসৌধ হিসেবে মনে করলেও, সেখানে খুফুর মমি সমাহিত থাকার প্রত্যক্ষ কোনো ঐতিহাসিক দলিল বা লিপি মেলেনি। গবেষক সেফি লেভি প্রাচীন মিসরীয় লিপিকারদের ভগ্নাংশ ও মাপজোখ বিশ্লেষণ করে আধুনিক গণিত ও মহাজাগতিক মানের সাথে বিস্ময়কর মিল খুঁজে পেয়েছেন:চন্দ্রচক্র (২৭.৫ মান): পিরামিডের পরিমাপের একটি সরল মান পাওয়া যায় ২৭.৫, যা চাঁদের নিকটতম বিন্দুতে পৌঁছানোর আবর্তন চক্রের (Anomalistic Month) সাথে হুবহু মিলে যায়।সিরিয়াস তারা ও মমি প্রক্রিয়া (৭০ সংখ্যা): পরিমাপের অন্য হিসাবের ফলাফল আসে ৭০।
প্রাচীন মিসরীয়দের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ‘সিরিয়াস’ তারার অস্তগমন ও পুনরায় উদয়ের মধ্যবর্তী সময় হচ্ছে ৭০ দিন। একই সাথে মিসরে মমি তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার সময়কালও ছিল ৭০ দিন।পাই ($\pi$) ও গোল্ডেন রেশিও ($\phi$): পিরামিডের ঢালু দেয়াল ও ভিত্তির অনুপাতে গাণিতিক ধ্রুবক ‘পাই’ এবং ‘গোল্ডেন রেশিও’র সুনির্দিষ্ট উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়া শনি ও বৃহস্পতি গ্রহের আবর্তন চক্রের অনুপাতও এতে বিদ্যমান।
২৭.৫ মান চাঁদের নিকটতম বিন্দুতে পৌঁছানোর আবর্তন চক্র
৭০ মান সিরিয়াস তারার উদয়-অস্তকাল ও মমি প্রক্রিয়ার দিনসংখ্যা
২.৫% মডেল শতসহস্র কাল্পনিক মডেলের মধ্যে কেবল ২.৫ শতাংশে এই অনুপাত মেলে (কাকতালীয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য)
‘আই অব দ্য সাহারা’ ও গিজার আদিভূমির যোগসূত্রসেফি লেভির গবেষণায় মিসরীয় সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে আরও একটি চমকপ্রদ তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রাচীন মিসরীয় উপাখ্যান অনুযায়ী—অন্ধকার জলরাশি থেকে জেগে ওঠা আদি পাহাড় ‘বেনবেন’ (Benben)-কে স্মরণ করেই পিরামিড তৈরি হয়েছিল।গবেষকদের ধারণা, হাজার বছর আগে সাহারা মরুভূমি যখন সবুজ ও উর্বর ছিল, তখন মৌরিতানিয়ায় অবস্থিত ‘আই অব দ্য সাহারা’ (Eye of the Sahara) নামের বিশাল বৃত্তাকার প্রাকৃতিক গঠনে মানুষ বসবাস করত।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেখানকার বাসিন্দারা নীল নদ উপত্যকায় অভিবাসন গ্রহণ করেন এবং তাঁদের আদি জন্মভূমির স্মৃতি গিজার পিরামিডে রূপ দেন।বৈজ্ঞানিক মহলে বিতর্ক ও পর্যালোচনাযদিও ‘আই অব দ্য সাহারা’ এবং গিজার পিরামিডের ভৌগোলিক বা ঐতিহাসিক সরাসরি যোগসূত্রের কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও এই তত্ত্ব ইতিহাসবিদদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। গবেষণা প্রবন্ধটি এখনও কোনো পিয়ার-রিভিউড (Peer-reviewed) বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি। ফলে বিজ্ঞান ও প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে এই মহাজাগতিক সংকেত ও নতুন তত্ত্ব নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।