নারী ফুটবলে ঈর্ষণীয় সাফল্য, কিন্তু বরাদ্দের অভাবে সংকটে অদম্য ফুটবল কন্যারা
দেশজুড়ে সুনাম কুড়ানো রংপুরের পালিচড়া স্টেডিয়ামের নারী ফুটবলাররা খাবারের কষ্ট ও বরাদ্দের অভাবে ভুগছেন। জেনে নিন পালিচড়ার ফুটবল কন্যাদের বর্তমান অবস্থা।
খেলাধুলা: টানা দুই বছর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ফ্ল্যাগশিপ টুর্নামেন্ট এশিয়া কাপ জয় করেও ট্রফি গ্রহণ করেনি ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পুরুষ ক্রিকেট দল এবং চলতি সেপ্টেম্বরে (২০২৬) নারী ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এসিসি প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভির হাত থেকে শিরোপা না নেওয়ার একই ঘটনা ঘটিয়েছে।
মহসিন নাকভির কাছ থেকে ভারত দলের ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।
ভারত ও পাকিস্তানের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বহু দিন ধরেই উত্তপ্ত। তবে ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মক রূপ নেয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা শুরু করলে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
রাজনৈতিক এই বৈরিতার প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়ে ক্রিকেট মাঠেও। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বার্তা সংস্থা আইএএনএস-কে জানান:
“পেহেলগামের ঘটনার পর আমাদের দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। ভারত সরকারের নীতি অনুযায়ী বহুজাতিক টুর্নামেন্টে আমাদের সব দেশের বিপক্ষেই অংশ নিতে হয়, বিসিসিআই কেবল সেই নীতি অনুসরণ করছে। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার অর্থ এই নয় যে আমরা সবকিছু মেনে নেব। যে দেশের একজন দায়িত্বশীল নেতা (মহসিন নাকভি) আমাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, তাঁর হাত থেকে ভারতীয় দল ট্রফি নিতে পারে না।”
পেহেলগাম হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চরম অবনতি।
বিসিসিআই নীতি বহুজাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বজায় রাখলেও শত্রুভাবাপন্ন নেতৃত্বকে বর্জন।
ট্রফি বয়কট ২০২৩ পুরুষ দল (অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব) ও ২০২৬ নারী দল (অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর)
দুবাইয়ের ফাইনালে রয়্যাল বক্স ও বিসিসিআইয়ের অবস্থান।
গতকাল দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আয়োজিত নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এবং সহসভাপতি রাজীব শুক্লা। রয়্যাল বক্সে এসিসি প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভির সাথে পাশাপাশি বসা প্রসঙ্গে সাইকিয়া স্পষ্ট করেন, শিষ্টাচার বজায় রেখে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা আর ট্রফি গ্রহণ করা এক বিষয় নয়।
বিসিসিআই প্রস্তাব দিয়েছিল শিরোপা যেন এসিসির সহসভাপতি খালিদ মাহমুদের হাত থেকে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু মহসিন নাকভি এই প্রস্তাবে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত ট্রফি না নিয়েই উদযাপনে মাতেন ভারতীয় মেয়েরা।
এই প্রসঙ্গে সাইকিয়া বলেন, “পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করেও সফলতা মেলেনি। তবে আমাদের এতে কোনো আক্ষেপ নেই। ট্রফি কে তুলে দিল সেটি বড় বিষয় ছিল না; মূল লক্ষ্য ছিল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া, যেখানে আমরা সফল।”
উল্লেখ্য, দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের অষ্টম নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতে নেয় ভারত।