দক্ষিণ আফ্রিকায় ২ মিনিবাস ও কারের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২১
ক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের এন-১ মহাসড়কে ২ মিনিবাস ট্যাক্সি ও কারের ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২১ জন।
আন্তর্জাতিক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সফলভাবে পর্দা নেমেছে ব্রিকসের (BRICS) ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের। দুই দিনব্যাপী চলা এই প্রভাবশালী জোটের আয়োজনে বিশ্বজুড়ে ১২ জনেরও বেশি শীর্ষ নেতা অংশ নেন। জোটের পূর্ণাঙ্গ শক্তি প্রদর্শনের এই আসরে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ বিশ্ব রাজনীতির হেভিওয়েট নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনের সমাপনী উপলক্ষে নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপমে’ বিশ্বনেতাদের সম্মানে এক জমকালো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
রাষ্ট্রীয় এই নৈশভোজে আমিষজাতীয় কোনো পদ (মাছ-মাংস) না রেখে ভারতের বৈচিত্র্যময় আঞ্চলিক রন্ধনশৈলীর মেলবন্ধন ঘটানো হয়, যা বিশ্বনেতা ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে:
গুজরাটের বেসন, কেশর আম ও দই দিয়ে তৈরি ‘খান্দভি মিলেফয়’ এবং বিশেষ মাশরুম দিয়ে তৈরি পুদিনার সুগন্ধযুক্ত ‘খুম্ব গালৌটি কাবাব’ (শিরমাল রুটিসহ)।
উত্তর ভারতীয় টমেটো ঝোলে পনিরের ‘পনির লাবাবদার’, হিমালয়ের বিশেষ গুচ্চি মাশরুমের সাথে জাফরান-কাঠবাদামের ‘গুচ্চি মারমিক’, দক্ষিণ ভারতীয় নারকেল তেল ও মসলায় টোস্ট করা ‘ক্যারট বিন পোরিয়াল’, এবং টমেটো-ডালের ‘থাক্কালি বেলে সারু’।
বাসমতী চালের সাথে বাজরা ও দেশীয় মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ‘মিলেট পোলাও’, দইয়ের বিটরুট রায়তা এবং বাহারি রাজকীয় রুটি।
পুরোনো দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ফ্রুটক্রিমের সঙ্গে মচমচে ‘জিলাপি’ এবং ঢিমে আঁচে চাল-দুধ ফুটিয়ে মিষ্টি মালবেরি ও খাওয়ার উপযোগী খাঁটি সোনার পাত দেওয়া ‘শাহুতুত ফিরনি’।
স্থান ভারত মণ্ডপম, প্রগতি ময়দান, নয়াদিল্লি
থিম সম্পূর্ণ শতভাগ নিরামিষ (পুরো ভারতের আঞ্চলিক পদের সংমিশ্রণ)
সাংস্কৃতিক প্রদর্শন ভরতনাট্যম, কুচিপুড়ি, ওডিশি ও কত্থক (১৬০ জন শিল্পী)
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস’ (আইসিসিআর)-এর আয়োজনে নৈশভোজে ১৬০ জন শিল্পীর অংশগ্রহণে ২০ থেকে ২৫ মিনিটের এক মনোহরি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে ভরতনাট্যম, কুচিপুড়ি, ওডিশি ও কত্থক নৃত্যের পাশাপাশি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ও সঙ্গীতের ফিউশন পরিবেশন করা হয়।
নৈশভোজে বিশ্বনেতাদের প্রায় সবাই যোগ দিলেও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। তাঁরা কী কারণে নৈশভোজ এড়িয়ে গেছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।