আজ পবিত্র শবে বরাত ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল সারাদেশ
৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ দোয়া ও ওয়াজ মাহফিলের সময়সূচি।
ঢাকা: ইসলামি ঐতিহ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহুল পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদান হলো কালিজিরা (Nigella sativa), যা আরবিতে হাব্বাতুস সাওদা (الحَبَّةُ السَّوْدَاءُ) নামে পরিচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বীজকে ‘সব রোগের ওষুধ’ আখ্যা দিয়েছিলেন, এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন এই বক্তব্যকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
নবীজি (সা.) তাঁর সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে খেজুর, মধু, দুধ ও অলিভ তেলের পাশাপাশি নিয়মিত কালিজিরা ব্যবহার করতেন।
রাসুলুল্লাহর (সা.) বাণী: সহিহ বুখারি ও মুসলিমের একাধিক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কালিজিরা খাও, এতে মৃত্যু ছাড়া সব রোগের আরোগ্য আছে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৮৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২১৫)
বাণীর তাৎপর্য: এই বাণীকে ‘মৃত্যু ছাড়া সব রোগের আরোগ্য’ কথাটি বোঝায় যে আল্লাহ এই প্রাকৃতিক উপাদানে এমন গুণ রেখেছেন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা জাগ্রত করে ও জীবনীশক্তি যোগায়। এটি প্রাকৃতিক প্রতিষেধক ও পরিপূরক খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।
তিব্বে নববী বা প্রফেটিক মেডিসিনে কালিজিরাকে ‘উপশমের মূল উপাদান’ বলা হয়েছে। বিখ্যাত ইসলামিক চিন্তাবিদ ইবনে কাইয়্যিম (রহ.) এটিকে পেট পরিষ্কারক ও ক্ষুধা বৃদ্ধিকারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, কালিজিরায় থাকা মূল উপাদান থাইমোকুইনোন শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী:
আধুনিক চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, কালিজিরা শরীরে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে, কিন্তু এর কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
খালি পেটে: সকালে আধা চা–চামচ কালিজিরা খাওয়া যেতে পারে।
মধুর সঙ্গে: এক চা–চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে এর উপকারিতা বৃদ্ধি পায়।
তেলের ব্যবহার: ঠান্ডা বা সর্দি লাগলে কালিজিরার তেল গরম পানির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা দিয়ে ব্যবহার করা যায়।
তবে গর্ভবতী নারী বা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এটি সেবন করা উচিত।