সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিশ্চিতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় এভিএস সিস্টেম
সঞ্চয়পত্রের ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়া ও ভোগান্তি বন্ধে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস)।
অর্থনীতি: নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন এক সপ্তাহের মধ্যে জারি হতে পারে—এমন ইঙ্গিত ও প্রত্যাশার দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনো জারি করা হয়নি কাঙ্ক্ষিত গেজেট। এমনকি নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তুতকৃত খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্যই পাঠানো হয়নি বলে অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশা।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে সর্বসম্মত অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন দ্রুততম সময়ে গেজেট প্রকাশের কথা বলা হলেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় থমকে আছে মূল প্রজ্ঞাপন।
আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খসড়া ভেটিংয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলা হলেও গত রোববার পর্যন্ত তা আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি। অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, খসড়া আটকে রাখা হয়নি; বরং সামরিক, বেসামরিক, বিজিবি, পুলিশ, ব্যাংক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভাতা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা যুক্ত করতেই কিছু অতিরিক্ত সময় লাগছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পূর্বে নির্ধারিত আইনি ও প্রশাসনিক ধাপগুলো হলো:
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত মূল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে বিভাগ ও সংস্থা অনুযায়ী বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা।
খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যেখানে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সাথে কোনো অসংগতি বা আইনি অস্পষ্টতা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে।
ভেটিং শেষে চূড়ান্ত অনুমোদিত খসড়াটি সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হবে গেজেট আকারে মুদ্রণের জন্য।
চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ: বিজি প্রেস থেকে মুদ্রণ সম্পন্ন হলে অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
কার্যকর তারিখ ১ জুলাই (তিন ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য)।
সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধি ১৪২% পর্যন্ত (সর্বনিম্ন গ্রেডে)।
প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি।
সর্বনিম্ন মূল বেতন (২০তম গ্রেড) ২০,০০০ টাকা (আগে ছিল ৮,২৫০ টাকা)।
সর্বোচ্চ মূল বেতন (১ম গ্রেড) ১,৫৬,০০০ টাকা (আগে ছিল ৭৮,০০০ টাকা)।
অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় বছরে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় ৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে প্রায় সাড়ে তিন মাস (১৫ ডিসেম্বর) সময় লেগেছিল।
বিষয়টি নিয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার জানান, মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। তবে দীর্ঘ ব্যবধানের পর নতুন পে স্কেলের ঘোষণা আসায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বভাবতই অধৈর্য ও অনিশ্চয়তা বেশি কাজ করছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করা ছাড়াও বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছিল। প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই বকেয়া হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই নতুন স্কেলের আর্থিক সুবিধা পাবেন।