৮৪ বছর বয়সে জীবনের ‘গভীর আক্ষেপ’ প্রকাশ করলেন অমিতাভ বচ্চন
কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে না পারাকে জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করলেন বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন।
বিনোদন: অনবদ্য অভিনয় শৈলী ও নিজস্ব ঢঙে বলিউডে আলাদা এক শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। বছরের পর বছর সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন বিশাল এক আন্তর্জাতিক ভক্তদল। তবে ক্যারিয়ারে অসংখ্য প্রশংসা পাওয়া এই অভিনেতার জীবনে এমন একটি বিশেষ সিনেমা রয়েছে, যা তাঁর পেশাগত জীবনের মোড় এক নিমিষেই ঘুরিয়ে দিয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো নিজেকে প্রকৃত ‘তারকা’ হিসেবে অনুভব করিয়েছিল।
সিনেমাটি আর কোনটিই নয়—অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’ (Gangs of Wasseypur 2)।
এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নওয়াজউদ্দিন জানান, ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’ মুক্তির পর তাঁর পেশাগত জীবনে অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পরিবর্তন আসে। সিনেমাটির অভূতপূর্ব সাফল্যের পর তিনি যে ধরনের কাজের প্রস্তাব পেতে শুরু করেছিলেন, তা ছিল তাঁর কল্পনারও বাইরে।
কোন সিনেমার পর নিজেকে প্রথম তারকা মনে হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে নওয়াজউদ্দিন সোজা ভাষায় বলেন:
“অবশ্যই, সেটি ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর ২’। এটি মুক্তির পর আমি রাতারাতি অন্তত ২০০টি সিনেমার চিত্রনাট্য পেয়েছিলাম! এমনকি আমার টেবিলে প্রযোজকদের সাইন করা ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ পড়ে থাকত। মানুষ এসে বলত—’এই নিন চিত্রনাট্য, আর এটি একটি ফাঁকা চেক। আপনার যত টাকা ইচ্ছে লিখে দিন এবং আপনার খালি থাকা ডেটগুলো আমাদের দিয়ে দিন।'”
পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ।
চরিত্র ফয়জল খান (Faisal Khan)।
পরিবর্তনের সূচনা ২০০টিরও বেশি ছবির চিত্রনাট্য ও সাইন করা ফাঁকা চেকে ছবির অফার।
সিদ্ধান্তের মূল বার্তা স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়া না করে দীর্ঘ অপেক্ষার নীতি।
প্রযোজকদের অফারের জোয়ার এবং ফাঁকা চেকের লোভ থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী নতুন কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র তাড়াহুড়া করেননি এই গুণী অভিনেতা। নওয়াজউদ্দিন জানান, তৎকালীন সময়ে পাওয়া ২০০টি চিত্রনাট্যের একটিও তাঁর কাছে যথেষ্ট মানসম্মত ও আকর্ষণীয় মনে হয়নি।
“আমি ওই চিত্রনাট্যগুলোর একটিতেও সই করিনি, কারণ কোনোটিই আমার মন ছুঁতে পারেনি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সঠিক ও শক্তিশালী চিত্রনাট্যের জন্যই অপেক্ষা করব। অভিনয়ের সুযোগের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে তো আমি আগে থেকেই অভ্যস্ত ছিলাম। তাই ভেবেছিলাম, তাড়াহুড়া করে সাধারণ কোনো প্রজেক্টে রাজি হওয়ার চেয়ে প্রয়োজনে আরও দুই-তিন বছর না হয় অপেক্ষাই করব।”