গাজায় এআই হামলা ও সেনা নথির প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’
গাজায় ইসরায়েলের এআই-নির্ভর যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস উৎসবে পেল বিশেষ জুরি পুরস্কার ও ২৫ মিনিটের রেকর্ড অভ্যর্থনা।
বিনোদন: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস লেখা হলে সেখানে সর্বাগ্রে ও অবধারিতভাবে যাঁর নাম উঠে আসে, তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের মুকুটহীন ‘নবাব’খ্যাত বরেণ্য অভিনেতা আনোয়ার হোসেন। ২০১৩ সালের এই দিনে (১৩ সেপ্টেম্বর) ৮২ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হলেও, কালের আবর্তে এই মহান শিল্পী চলচ্চিত্রপাড়ায় যেন দিন দিন বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে সাড়ে তিন শরও বেশি চলচ্চিত্রে রূপালী পর্দায় তিনি নিজের অনন্য অভিনয়শৈলী ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার মুরুলিয়া গ্রামের এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আনোয়ার হোসেন। ১৯৫১ সালে জামালপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ময়মনসিংহ কলেজে ভর্তি হন। কলেজের প্রথম বর্ষে পড়াকালে আসকার ইবনে শাইখের ‘পদক্ষেপ’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নাট্যমঞ্চের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণের জন্ম হয়।
পরবর্তীতে ঢাকায় এসে প্রকৌশল সংস্থায় চাকরির পাশাপাশি বেতার ও মঞ্চনাটকে যুক্ত হন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে গড়ে তোলেন ‘মিনার্ভা থিয়েটার’, যেখানে তৎকালীন জনপ্রিয় নাট্যজন সুভাষ দত্ত, ফতেহ লোহানী, সৈয়দ হাসান ইমাম ও চিত্রা সিনহাদের মতো গুণী শিল্পীরা যুক্ত ছিলেন।
১৯৫৯ ‘এক টুকরো জমি’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নজর কাড়া
১৯৬১ মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে ভিলেন চরিত্রে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ
১৯৬১-১৯৬৬ সালাহউদ্দিনের ‘সূর্যস্নান’ থেকে শুরু করে ১৮টি ছবিতে সাফল্য অর্জন
১৯৬৭ খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় ➔ ‘নবাব’ খ্যাতি লাভ।
১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ চলচ্চিত্রে নবাবের চরিত্রে কালজয়ী ও আবেগঘন অভিনয় আনোয়ার হোসেনকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দেয়। সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেমের যন্ত্রণা তিনি দর্শকদের হৃদয়ে এমনভাবে খোদাই করে দিয়েছিলেন যে, দেশবাসী তাঁকে ভালোবেসে ‘বাংলা চলচ্চিত্রের নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
ঐতিহাসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাহিত্যনির্ভর, পোশাকি ফ্যান্টাসি থেকে শুরু করে গ্রামীণ মেলোডাইনামিক—সব ধরনের ধারায় ছিল তাঁর সাবলীল উপস্থিতি।
কালজয়ী ও স্মরণীয় চলচ্চিত্রসমূহ:
জীবন থেকে নেয়া (জহির রায়হান)
লাঠিয়াল (আমজাদ হোসেন)
অরুণোদ্বয়ের অগ্নিসাক্ষী (আলমগীর কবির)
গোলাপী এখন ট্রেনে (আমজাদ হোসেন)
পালঙ্ক (রাজেন তরফদার)
সূর্যগ্রহণ ও সূর্যসংগ্রাম (আব্দুস সামাদ)
জয় বাংলা, সুন্দরী, সখিনার যুদ্ধ, দায়ী কে, সত্য মিথ্যা
ঢাকাই চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আনোয়ার হোসেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু সম্মাননায় ভূষিত হন:
১৯৮৫ সালে ভাষা ও সংস্কৃতির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ।
২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে ‘আজীবন সম্মাননা’য় ভূষিত করে।
ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের জন্য পাকিস্তানের মর্যাদাপূর্ণ নিগার পুরস্কার এবং একাধিক বাচসাস পুরস্কার অর্জন।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা থেকে শুরু করে রাজপথের লাঠিয়াল কিংবা সংগ্রামশীল পরিবারের অভিভাবক—আনোয়ার হোসেন বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে এক অনন্য নক্ষত্র হয়ে যুগের পর যুগ দর্শকদের মনে বেঁচে থাকবেন।