গাজায় এআই হামলা ও সেনা নথির প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’
গাজায় ইসরায়েলের এআই-নির্ভর যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস উৎসবে পেল বিশেষ জুরি পুরস্কার ও ২৫ মিনিটের রেকর্ড অভ্যর্থনা।
বিনোদন: হলিউডে স্যান্ড্রা বুলকের তারকাখ্যাতি ও প্রাথমিক পরিচিতি গড়ে উঠেছিল মূলত রোমান্টিক কমেডি ও হালকা মেজাজের বিনোদনধর্মী ছবির অভিনেত্রী হিসেবে। ‘হোয়াইল ইউ ওয়ার স্লিপিং’, ‘টু উইকস নোটিশ’, ‘হোপ ফ্লোটস’ কিংবা ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’—একসময় বড় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল হাসির খোরাক ও বক্স অফিসের সাফল্যের নিশ্চয়তা। তবে সাফল্যের শিখরে থেকেও ক্যারিয়ারের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে রোমান্টিক কমেডির চেনা গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসার ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সম্প্রতি বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনের সঙ্গে একখোলামেলা আলাপচারিতায় নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর তিক্ত অভিজ্ঞতা ও টাইপকাস্ট ভাঙার সেই সংগ্রামের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন এই অস্কারজয়ী অভিনেত্রী।
অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে নিউইয়র্কে ওয়েট্রেসের কাজ করতেন স্যান্ড্রা বুলক। সেই কঠিন দিনগুলোতে কাজের অডিশন দিতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।
স্যান্ড্রার ভাষায়, সে সময় এমন অনেক পুরুষ পরিচালকের সামনে অডিশন দিতে হতো, যাঁরা চরিত্র দেওয়ার বিনিময়ে অনৈতিক ও আপত্তিকর প্রস্তাব দিতেন। এমনকি কেউ কেউ সরাসরি ‘প্যান্ট খুলতে’ বলতেন। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নীতির প্রশ্নে আপস না করে দৃঢ়ভাবে সেসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে স্যান্ড্রা বলতেন, “না, এই চরিত্র আমার জন্য নয়।”
অ্যানিস্টনকে তিনি জানান, একজন নতুন ও সংগ্রামী অভিনেতার মনে সবসময় ভয় কাজ করে—‘হয়তো আর কখনো কাজ পাব না’। সেই ভয় চেপে রেখেই সব ছোট ছোট সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বকীয়তায় সামনে এগিয়ে যেতে হয়।
১৯৯৫ সালে ‘হোয়াইল ইউ ওয়ার স্লিপিং’-এর পর ‘টু ইফ বাই সি’, ‘ফোর্সেস অব নেচার’ এবং হিউ গ্র্যান্টের বিপরীতে ‘টু উইকস নোটিশ’ ছবিতে অভিনয় করে বাণিজ্যিক সাফল্য পান স্যান্ড্রা। ২০০০ সালের ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’ তাঁর তারকাখ্যাতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে টানা রোমান্টিক কমেডি করার ফলে সমালোচকদের তীক্ষ্ণ নজর ও একই ধরনের চরিত্রে আটকে যাওয়ার (টাইপকাস্ট) আশঙ্কা তৈরি হয়।
২০০৪ রোমান্টিক কমেডি থেকে বিরতি নিয়ে গুরুতর ‘ক্রাশ’ (Crash) ছবিতে অভিনয় অস্কারজয়ী সেরা ছবি
২০০৯ ‘দ্য ব্লাইন্ড সাইড’ (The Blind Side) সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) অর্জন
২০২২ ‘দ্য লস্ট সিটি’ (The Lost City) ১৯২ মিলিয়ন ডলারের বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক সাফল্য
মধ্য ২০০০-এর দশকে স্যান্ড্রা চরম সচেতনভাবে রোমান্টিক কমেডি ঘরানা থেকে বিরতি নেন। ২০০৪ সালে তাঁর অভিনীত ‘ক্রাশ’ (Crash) নাট্যধর্মী ছবিটি মুক্তি পায়। এই ছবিতে নিজের শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, হাসির ছলের বাইরে গুরুতর গম্ভীর চরিত্রেও তিনি সমান পারদর্শী। ছবিটি সেরা ছবি বিভাগে অস্কার জেতে এবং স্যান্ড্রা পান স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড।
২০০৯ সালে রায়ান রেনল্ডসের সঙ্গে ‘দ্য প্রোপোজাল’ (The Proposal) দিয়ে আবার বাণিজ্যিক ধারায় ফেরেন স্যান্ড্রা। একই বছর ‘অল অ্যাবাউট স্টিভ’ ছবির জন্য তিনি গোল্ডেন রেজি (বাজে অভিনেত্রী) পুরস্কার পান। তবে একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ব্লাইন্ড সাইড’ (The Blind Side) ছবিটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং স্যান্ড্রা বুলক অর্জন করেন কাঙ্ক্ষিত অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার)।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে চ্যানিং ট্যাটামের সঙ্গে ‘দ্য লস্ট সিটি’ দিয়ে মহামারি-পরবর্তী সময়ে বক্স অফিসে বিশ্বজুড়ে ১৯২ মিলিয়ন ডলার আয় করে প্রমাণ করেছেন—সব ঘরানার সিনেমাতেই তাঁর উপস্থিতি সমানভাবে রাজকীয়।