এসবিএসি ব্যাংকে ‘লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি
সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসিতে লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের জন্য কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বিস্তারিত।
অপরাধ ও দুর্নীতি: ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ আড়াল করতে আপন ছোট ভাই এবিএম শাহারিয়ারের নামে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট মিঠামইন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একটি হেবা দলিলের মাধ্যমে এই বিশাল আয়তনের জমি ভাইকে হস্তান্তর করেন তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশদ তদন্তে সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর ভাইয়ের অবৈধ সম্পদের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র এবং সম্পদের মূল উৎস গোপন করতে পারস্পরিক যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে হারুনের ছোট ভাই এবং ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম শাহারিয়ারের নামে ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৭ টাকা।
সাভার, রূপগঞ্জ, গুলশান ও কিশোরগঞ্জে মূল্যবান জমি এবং প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে ৬ কোটি ১৬ লাখ ৩৫৭ টাকার বিনিয়োগ।
২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত শাহারিয়ারের মোট আয় ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ টাকা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ১৬ লাখ ৪৭ ১৭৪ টাকা।
ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায় মাত্র ৪৮ লাখ ৯০ লাখ ১৩০ টাকা।
বৈধ আয়ের বিপরীতে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫ টাকার সম্পদই জ্ঞাতআয়বহির্ভূত বা অবৈধ বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
হস্তান্তরিত জমি ১,৮৫০ শতাংশ (মিঠামইন সাবরেজিস্ট্রি অফিস, ২০১৬)।
দুই ভাইয়ের যোগসাজশ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ স্থানান্তর ও রূপান্তর।
হারুনের বিরুদ্ধে ধারা দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭(১), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩)।
শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে ধারা মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা (সহযোগিতা)।
দুদকের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতার চাদরে থেকে অর্জিত অবৈধ সম্পদ আড়াল করতেই হারুন তাঁর ভাইকে হেবা দলিলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জমি হস্তান্তর করেন। এই জমি শাহারিয়ারের মামলায় হিসাব না করে হারুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক অবৈধ সম্পদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, দুই ভাই পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে অর্জিত সম্পদের প্রকৃত উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে তা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর (Money Laundering) করেছেন, যা দেশের দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মারাত্মক অপরাধ।