সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে চাই আঞ্চলিক সুশাসন : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে লক্ষ্মীপুরে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সভায় সামাজিক অবক্ষয়, অবৈধ ইটভাটা ও মাদক প্রতিরোধের ওপর বিশেষ সম্পাদকীয়।
জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশের পর র্যাবের সব ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরবি নামে কার্যক্রম শুরু করেছে। নাম পরিবর্তন, নতুন লোগো এবং মিডিয়া চ্যানেলগুলোর পুনর্নামকরণের মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তনের সূচনা হলেও এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিয়ে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি এবং মানবাধিকারকর্মীদের গভীর উদ্বেগের বিপরীতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের ভারসাম্যে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
বিগত দুই দশকে র্যাবের অপরাধ দমন সাফল্য যেমন ছিল, তেমনই গুম, অন্যায় গ্রেপ্তার ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো ইতিহাস বাহিনীটিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল। আইন পাসের মাধ্যমে র্যাব বিলুপ্তির কথা বলা হলেও র্যাবের জনবল, অবকাঠামো, বিদ্যমান সুবিধা, অর্থ, হাজতখানা এবং তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের আইনি ক্ষমতা হুবহু নতুন এসআরবি-তে ন্যস্ত হওয়ায় এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, এটি কি নিছকই এক “সাইনবোর্ড পরিবর্তন”?
মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ বিভিন্ন সময় র্যাব বিলুপ্তির নির্দেশনার পাশাপাশি এই পরামর্শও দিয়েছিল যে, কোনো বিশেষায়িত দল গঠন করা হলে তা যেন শুধু প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে করা হয়।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নতুন এসআরবি-তেও সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ডেপুটেশনে নেওয়ার সুযোগ রেখে মূল কাঠামোগত দুর্বলতা জিইয়ে রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে আগের সরঞ্জাম ব্যবহারের যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে তা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক হলেও, পুরোনো মানসিকতা দূর করার ক্ষেত্রে তা কতটা কার্যকর হবে তা সময়ই বলে দেবে।
নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য যে “অভিযোগ প্রতিকার কমিটি” গঠনের কথা বলা হয়েছে, সেটি সংস্কারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিটেরই একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। তবে অতীতে বাহিনীটির বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি ছিল, তা ভাঙতে হলে এই অভিযোগ প্রতিকার কমিটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।
শুধু পোশাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা লোগো পরিবর্তন করে একটি বাহিনীর পেশাদারত্ব ও ভাবমূর্তি বদলানো যায় না। মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খানের বক্তব্য অনুযায়ী, মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন না এলে পোশাক বদলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
নতুন নামে কাজ শুরু করা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) কে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তারা কেবল একটি পুরনো বাহিনীর নতুন রূপ নয়; বরং মানবাধিকার রক্ষা, নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তারা একটি নিরপেক্ষ ও আধুনিক বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।