শিক্ষার মেরুদণ্ডেই ক্ষয়, মূল্যায়ন ব্যবস্থার অনিয়ম ও গভীর আশঙ্কার বার্তা: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা মূল্যায়ন ব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।
বাংলাদেশের বিমা খাত দীর্ঘদিন ধরেই চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, তদারকির অভাব এবং গ্রাহকের দাবি পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এক গভীর অনাস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মন্তব্য দেশের আর্থিক খাতের এই নাজুক বাস্তব চিত্রটিকেই উন্মোচিত করেছে। গ্রাহকের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে করা সঞ্চয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ বিমা দাবি অপূরন থাকা কোনো সুস্থ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার লক্ষণ হতে পারে না।
এই পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পরিশোধের তাগিদ এবং প্রয়োজনে বিমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের পাওনা মেটানোর নির্দেশ অত্যন্ত সাহসী, ইতিবাচক ও জনমুখী পদক্ষেপ।
গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা, দুই সার্ভার কেন্দ্রিক দুর্নীতি বন্ধ করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
অনেক বিমা কোম্পানি গ্রাহকের নগদ পাওনা পরিশোধে অপারগতা দেখালেও, সেই অর্থ দিয়ে নিজস্ব জমি ও বিলাসবহুল স্থাবর সম্পদ ঠিকই গড়ে তুলেছে।
ব্যাংক খাতের মতো বিমা খাতেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। যেসব কোম্পানি নগদ অর্থসংকটের অজুহাত দেখায়, তাদের সম্পদ বিক্রি করে হলেও সাধারণ গ্রাহকের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।
দুর্বল ও অকার্যকর কোম্পানিগুলোকে পরিচালনা বা পুনর্বাসনের জন্য বিমা আইনে নতুন ‘রেজোল্যুশন’ কাঠামো যুক্ত করার পরিকল্পনা বিমা খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বিমা খাতে জালিয়াতি ও অসচ্ছতা দূর করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় তদারকি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
শারীরিকভাবে কার্যালয়ে না গিয়ে অনলাইনে সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে অনৈতিক লেনদেন হ্রাস পাবে। প্রকৃত তথ্য গোপন করতে একটির জায়গায় দুইটি সার্ভার ব্যবহার করার জালিয়াতি কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর দুই সার্ভার পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল বা ফৌজদারি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিমা খাত কেবল অর্থ সঞ্চয়ের মাধ্যম নয়; এটি একটি দেশের অর্থনীতির মূল ঝুঁকি মোকাবিলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। অর্থমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন যে, গভীরে শিকড় গেড়ে বসা এই দুর্নীতি দূর করা কঠিন, কিন্তু জনগণের স্বার্থে এই কঠিন কাজটিই করতে হবে।
সাত-আটটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকা কোম্পানির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রাহকদের নিরাপত্তা প্রদান এবং আইডিআরএ-কে একটি স্বাধীন ও ক্ষমতাবান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের বিমা খাত আবার তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ও আস্থা ফিরে পাবে।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।