ডেঙ্গুর বিস্তার ও সারা দেশে প্রতিরোধ অভিযান, সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
৬৪ জেলায় ডেঙ্গু বিস্তার ও সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে চূড়ান্ত প্রকোপের আশঙ্কায় সরকারের তিন মাসব্যাপী অভিযানের ওপর বিশেষ সম্পাদকীয়
ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে বাংলাদেশ বিশ্ব বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ভূখণ্ড। সম্প্রতি দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বক্তব্য দেশের এভিয়েশন খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দেয়।
ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক যাত্রীসংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৩ কোটিতে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস প্রমাণ করে যে, কেবল প্রথাগত বিমানবন্দর পরিচালনায় বাংলাদেশ আর সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। একটি দূরদর্শী ভাবনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রধান আঞ্চলিক ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত যেমন সময়োপযোগী, তেমনই এটি বাস্তবায়নের জন্য এভিয়েশন অবকাঠামো ও পরিষেবায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন।
বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শুধু যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, বরং বিশ্বমানের কার্গো হ্যান্ডলিং, লজিস্টিকস এবং টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমানোর মতো কার্যকর পদক্ষেপে জোর দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দেশীয় বিমানবন্দরগুলোর পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ।
অবতরণ ও পুনরায় উড্ডয়নের মধ্যবর্তী সময় ২৫ মিনিটে নামিয়ে আনতে পারলে বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বৈশ্বিক এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশকে ট্রানজিট ও জ্বালানি নেওয়ার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারে আগ্রহী হবে।
তৈরি পোশাক খাতসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্য দ্রুত বহির্বিশ্বে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক কার্গো টার্মিনাল স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা শাহ আমানত বিমানবন্দরে ভবিষ্যতে যাত্রী ও কার্গোর এই বিশাল চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে নতুন বৃহৎ বিমানবন্দর নির্মাণের আগাম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে আগামী কয়েক দশকের উড়োজাহাজ পার্কিং ও রক্ষণাবেক্ষণের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়।
শুধু সরকারি অর্থায়নে এভিয়েশন খাতের এমন দ্রুত বিকাশ সম্ভব নয়। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, এভিয়েশন সিকিউরিটি ও অবকাঠামো উন্নয়নে স্বনামধন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও দেশীয় বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নীতিগত সংস্কার ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করা প্রথম পূর্বশর্ত। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ অচিরেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিমান চলাচলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।
সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে এক বিরাট চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।