তিন দফা বিচারেও যে খুনের রহস্যের শেষ নেই, সেই গল্প ‘আ কিলার স্টোরি’তে
ডানা চ্যান্ডলারের বিরুদ্ধে তিন দফা বিচার ও দণ্ডের পরও টোপেকার জোড়া খুনের সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ইলিন ও কিন উমবেরের অনুসন্ধানের গল্প নিয়ে এইচবিওর তথ্যচিত্র ‘আ কিলার স্টোরি’।
বিনোদন: ২০১৬ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হওয়ার ঘটনায় মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ানকে প্রতীকী ১ ইউরো (১.১৫ ডলার) ক্ষতিপূরণ দিয়েছে প্যারিসের একটি আদালত। এই তারকা অবশ্য মামলার শুরু থেকেই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঠিক এই পরিমাণ অর্থই দাবি করেছিলেন। মামলার সঙ্গে যুক্ত এক আইনজীবী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডাকাতির এই ভয়াবহ ঘটনাটিকে কার্দাশিয়ান তার জীবনের ‘সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। গত বছর ফরাসি আদালত এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই রায় এল।
রায় ঘোষণার পর কিম কার্দাশিয়ান এবং তার স্টাইলিস্ট সিমন হারুশ যৌথ এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, এই অভিজ্ঞতাটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল এবং এর মানসিক প্রভাব এখনো তাদের মনে রয়ে গেছে। আজকের এই রায় কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি অপরাধের দায় স্বীকার ও জবাবদিহির একটি বড় প্রমাণ। এই রায়ের মাধ্যমে তারা এই অপ্রীতিকর স্মৃতি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ঘটনার সময় যে হোটেলে (হোটেল দ্য পোরতালেস) কার্দাশিয়ান অবস্থান করছিলেন, সেখানকার এক সাবেক রিসেপশনিস্টকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ ইউরো এবং হোটেল কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কার্দাশিয়ানের স্টাইলিস্ট সিমন হারুশকেও তার দাবি অনুযায়ী প্রতীকী ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ২ অক্টোবর ‘ফ্যাশন উইক’ চলাকালে ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে জোরপূর্বক কিম কার্দাশিয়ানের স্যুইটে প্রবেশ করে। এ সময় তারা জিপ টাই ও টেপ দিয়ে তাকে বেঁধে ফেলে এবং ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের বহুমূল্যবান গয়না লুট করে নিয়ে যায়। খোয়া যাওয়া গহনার মধ্যে একটি দামি হীরার আংটিও ছিল, যা তিনি ওই রাতে একটি ফ্যাশন শোতে পরেছিলেন।
বয়স্ক হওয়ার কারণে ফরাসি গণমাধ্যমে এই ডাকাত চক্রটি ‘গ্র্যান্ডপা রবার্স’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বিচার চলাকালীন দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বয়স ৬০ থেকে ৭০-এর কোঠায় ছিল। বিচার-পূর্ব আটকাবস্থায় তাঁরা ইতিমধ্যে সাজা ভোগ করে ফেলায় কাউকেই নতুন করে কারাগারে যেতে হয়নি এবং আসামিপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিলও করেনি।