তেহরানে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শোভাযাত্রা, অংশ নিলেন লাখো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানে ‘জানফাদা-ই-ইরান’ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলবাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব অন্তত দুটি ইউরোপীয় তেল শোধনাগারকে জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে তাদের নির্ধারিত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ দেওয়া হবে না। বিষয়টি বাজারে সৌদি তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ইউরোপীয় রিফাইনারিগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পেয়ে থাকে। তবে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিয়মিত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইনটি সচল না থাকায় সৌদি আরামকো অন্তত দুটি ইউরোপীয় গ্রাহকের অক্টোবরের অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধের কথা জানিয়েছে।
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দেয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়।
গত ১০ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। হামলায় কয়েকটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইয়ানবু বন্দরের তেল লোডিং কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাটি ইরাক থেকে হয়েছে বলে তাদের ধারণা। ইরাকের ভেতরে বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরামকো কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনের আংশিক কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করছে এবং পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। বিকল্প হিসেবে ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে কিছু রপ্তানি চালিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
পাইপলাইন ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে একের পর এক বাধার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৪ ডলারে ছিল; সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে তা আরও ওপরে উঠেছিল।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সরবরাহের বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বাজারেও চাপ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেও গত কয়েক দিনে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে শুধু সৌদি পাইপলাইনই নয়, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর তৎপরতার কারণে বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগরপথেও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সংঘাতও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
এরই মধ্যে কাতারের এলএনজি সরবরাহও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার কারণে ব্যাহত হয়েছে। কাতারএনার্জি বিভিন্ন ক্রেতাকে সরবরাহ স্থগিত বা বাতিলের বিষয়ে জানিয়েছে, যার প্রভাব এশিয়া ও ইউরোপের বাজারেও পড়ছে।
তেল, গ্যাস, জাহাজ চলাচল ও পরিবহন ব্যয়ের ওপরও এর প্রভাব বাড়ছে। সৌদি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দ্রুত স্বাভাবিক করা যায় কি না এবং হরমুজ ও লোহিত সাগরের নৌপথে সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হয়—তার ওপর আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাপ অনেকটাই নির্ভর করবে।