তেহরানে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শোভাযাত্রা, অংশ নিলেন লাখো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানে ‘জানফাদা-ই-ইরান’ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক: ইরিত্রিয়ার ক্ষমতাসীন দল, সামরিক বাহিনী ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্ত সামনে এলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) জানিয়েছে, ইরিত্রিয়ার পিপলস ফ্রন্ট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড জাস্টিস (পিএফডিজে), ইরিত্রিয়ান ডিফেন্স ফোর্সেস, রেড সি ট্রেডিং করপোরেশন এবং হিদরি ট্রাস্ট-কে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকর্তা হাগোস গেব্রেহিওয়েত ও আরেক ইরিত্রীয় কর্মকর্তার ওপর থাকা সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে সংঘাতে ইরিত্রিয়ার ভূমিকার অভিযোগে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ওই সংঘাতে ইরিত্রিয়ার বাহিনী ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে লড়াই করেছিল। যুদ্ধটি ২০২২ সালের নভেম্বরে একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়।
মার্কিন ট্রেজারির ২০২১ সালের নথিতে পিএফডিজে, ইরিত্রিয়ান ডিফেন্স ফোর্সেস, হিদরি ট্রাস্ট, রেড সি ট্রেডিং করপোরেশন এবং হাগোস গেব্রেহিওয়েতসহ কয়েকজনকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা উল্লেখ ছিল।
ইরিত্রিয়ার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ইয়েমানে গেব্রেমেসকেল যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এ নিষেধাজ্ঞাকে ইরিত্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়টিকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে লোহিত সাগরের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি। ইয়েমেনে হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতির কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরিত্রিয়ার দক্ষিণ উপকূল ও আসাব বন্দর এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের কাছেই অবস্থিত।
ইরিত্রিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে লোহিত সাগরের পশ্চিম তীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের বিপরীত পাশে অবস্থিত দেশটির উপকূল ও বন্দরগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরিত্রিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল কৌশলগত বিবেচনাই কাজ করেছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি।
ইরিত্রিয়া ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকি ক্ষমতায় রয়েছেন। প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনপূর্ণ। টাইগ্রে যুদ্ধের সময় দুই দেশ একই পক্ষে থাকলেও পরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে সুদানের চলমান যুদ্ধ ঘিরেও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল ও লোহিত সাগরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের কৌশলগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সুদানের সীমান্তও রয়েছে এবং সুদানের যুদ্ধের প্রভাব পুরো অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে থাকা বাব আল-মান্দেব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি। ইয়েমেনের হুথিদের হামলার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরিত্রিয়ার মতো লোহিত সাগর-তীরবর্তী দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তন আঞ্চলিক কূটনীতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপের ওপর।