তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ, সুপ্রিম কোর্টে মমতা
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশের প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রদর্শনের লক্ষ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জানফাদা-ই-ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শোভাযাত্রা। ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এতে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সকাল থেকে তেহরানের ঐতিহাসিক ইমাম হোসেইন স্কয়ার থেকে এনগেলাব বা বিপ্লব স্কয়ার পর্যন্ত শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সামরিক ও আধাসামরিক ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেন। একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন এলাকাতেও কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শোভাযাত্রায় ইরানের তৈরি বিভিন্ন ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়। সামরিক পোশাক পরা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বাসিজ বাহিনীর সদস্যরাও এতে অংশ নেন। কিছু অংশগ্রহণকারী কাফনের কাপড় পরে নিজেদের দেশের জন্য আত্মত্যাগের প্রস্তুতির প্রতীকী বার্তা দেন।
তেহরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার হাসান হাসানজাদেহ জানান, তেহরানে প্রায় ৫ লাখ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো ‘জানফাদা-ই-ইরান’ প্রচারণায় কয়েক লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। দেশব্যাপী অংশগ্রহণের আরও বড় সংখ্যা নিয়ে আয়োজকদের দাবি থাকলেও সেসব হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ধর্ম, জাতি, ভাষা বা অন্যান্য বৈচিত্র্য নির্বিশেষে ইরান সব ইরানির দেশ।
পেজেশকিয়ান জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ইরানি জনগণের সঙ্গে দেশের গভীর সম্পর্ক এবং দেশের মর্যাদা, স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় শক্তি রক্ষার প্রত্যয়ের প্রতিফলন।
কর্মসূচিতে নারী, তরুণ, ধর্মীয় নেতা, সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অংশ নেন। মোটরসাইকেল আরোহীদেরও বিশেষ প্রদর্শনী ছিল। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে একটি ইয়েমেনি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়োজকেরা কর্মসূচিটিকে দেশের প্রতি আনুগত্য ও প্রতিরক্ষার প্রস্তুতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এটিকে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান সরকারের আয়োজিত বড় ধরনের জনসমাবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
শুক্রবারের কর্মসূচিটি ইরানে চলমান সংঘাতের আবহেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানে এটিই অন্যতম বড় সরকার-আয়োজিত জনসমাবেশ। শোভাযাত্রায় সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষায় প্রস্তুতির বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
তবে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের সরকারি হিসাব এবং দেশব্যাপী প্রচারণায় নিবন্ধনের সংখ্যা—দুটিই সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য। এসব সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।