কনের সম্মতি ছাড়া কাবিননামায় মোহর কম লেখা যাবে?
নির্ধারিত মোহর কাবিননামায় কম করে লেখা যাবে কি না এবং কীভাবে কমানো যাবে—এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান জানিয়েছেন মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের।
ইসলাম: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে কাজ করা এবং এআই ডেভেলপমেন্টের পেশা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ঢাকার উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি।
তার মতে, শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো পেশা হালাল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো ওই পেশায় যে কাজ করা হচ্ছে এবং যে উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে, তা বৈধ হওয়া। প্রযুক্তি নিজে হালাল বা হারাম নয়; বরং এর ব্যবহার, উদ্দেশ্য ও ফলাফলের ওপর এর বিধান নির্ভর করে।
তিনি বলেন, এআই মানুষের তৈরি একটি শক্তিশালী মাধ্যম বা টুল। এটি নিজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালাল বা হারাম নয়। ব্যবহারকারী ও ডেভেলপারের উদ্দেশ্য এবং প্রয়োগের ধরন অনুযায়ী এআইয়ের ব্যবহার জায়েজ বা নাজায়েজ হতে পারে।
মুফতি সাইদুজ্জামানের মতে, চিকিৎসা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রশাসনসহ মানবকল্যাণমূলক কাজে এআই ব্যবহার করা হলে তা বৈধ ও উপকারী কাজের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে তিনি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন—
“তিনিই সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের (কল্যাণের) জন্য সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৯
এ ছাড়া তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করেন—
“মানুষের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যিনি মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।”
আল-মু’জামুল আওসাত: ৫৭৮৭
এআই ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে এমন কোনো অ্যালগরিদম বা সফটওয়্যার তৈরি করা উচিত নয়, যা মানুষের ক্ষতি করে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করে, সাইবার হামলায় সহায়তা করে কিংবা সমাজের জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয় বলে তিনি মত দেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি কোরআনের আয়াত এবং ইসলামের একটি মৌলিক নীতি তুলে ধরেন—
“ইসলামে নিজের ক্ষতি করা যাবে না, অন্যের ক্ষতিও করা যাবে না।”
সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৪০
এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও বা ডিপফেক তৈরি করা এবং সেগুলো দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত বা প্রতারিত করা শরিয়তসম্মত নয় বলেও উল্লেখ করেন মুফতি সাইদুজ্জামান।
তিনি সত্যবাদিতা ও আমানতদারির ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন—
“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।”
সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৯
এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন—
“যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা বা ধোঁকাবাজি করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”
সহিহ মুসলিম: ১০২
এআই মডেল অনেক সময় ভুল বা মনগড়া তথ্য দিতে পারে, যা প্রযুক্তির ভাষায় ‘হ্যালুসিনেশন’ নামে পরিচিত। তাই এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই না করে সরাসরি গ্রহণ করা উচিত নয় বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিশেষ করে দ্বীনি জ্ঞান, ফতোয়া বা শরিয়তের কোনো বিষয়ে এআইয়ের উত্তরের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য আলেম ও মূল উৎস থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।
“হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।”
সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৬
এ ছাড়া তিনি বলেন, “যদি তোমরা না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।” —সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৩।
মুফতি সাইদুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই ডেভেলপার হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
তৈরি করা এআই কোনো হারাম কাজ যেমন জুয়া, অশ্লীলতা, জালিয়াতি বা সুদভিত্তিক কার্যক্রম—প্রচার বা সহজতর করার কাজে ব্যবহার না করা।
এআই প্রশিক্ষণে চুরি করা তথ্য বা আইনগত ও নৈতিক অধিকার লঙ্ঘন করে সংগৃহীত ডেটা ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
এআইকে এমন স্বাধীনতা না দেওয়া, যাতে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ, ব্যক্তিগত অধিকার বা জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
সুতরাং, তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআই ডেভেলপমেন্টের পেশা নিজে হারাম নয়। বরং একজন এআই ডেভেলপার কী ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করছেন, কোন উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করছেন এবং তাতে কারও অধিকার বা ক্ষতি হচ্ছে কি না এসব বিষয়ের ওপর কাজটির শরিয়তসম্মত হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে।