স্বামীর অসুস্থতার কথা জানিয়ে দোয়া চাইলেন সামান্থা শারমিন
স্বামীর অসুস্থতার কথা জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন। ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, তার স্বামীর চিকিৎসা চলছে।
রাজনীতি: গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির নেতারা বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান তুলে ধরেন জোটের নেতারা। সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার কারণ ও নিজেদের অবস্থান জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার (জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন) বিষয়ক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, তাদের মতে গণভোটে জনগণ শুধু কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন দেয়নি; সংস্কার বাস্তবায়নের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার প্রতিও সম্মতি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরুর পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, এতে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রকাশিত সাংবিধানিক ম্যান্ডেটের সঙ্গে বর্তমান প্রক্রিয়ার অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। গণভোটের পর বিশেষ কমিটি গঠন নিয়ে আপত্তির কথা এর আগেই জানিয়েছিল জোটটি এবং এ কারণে কমিটির মতবিনিময় সভা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও এ ক্ষমতার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা ও সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে প্রতিষ্ঠিত নীতিগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
জোটটির দাবি, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে।
তাদের বক্তব্য, এসব বিষয়ে গণভোটে প্রকাশিত জনমতের ভিত্তিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংস্কার বাস্তবায়ন করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন।
জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন।
গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকা।
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করা।
জনগণের সম্মতি ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের উদ্যোগ না নেওয়া।
জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়া।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোই বর্তমান সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসনের গণতান্ত্রিক পথ বলে তারা মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোট কোনো দলের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ বা উপেক্ষা করার বিষয় নয়। গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখানোই গণতন্ত্রের মূল দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।