অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এফ-৩৫-এর স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ হংকংয়ে
অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর ক্যানোপি হংকংয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে তুরস্ক। বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে সহায়তা দিতে আঙ্কারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর গুরুতর আঘাত আসছে। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অঙ্গীকারের আওতায় প্রয়োজন হলে সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিতে তুরস্ক প্রস্তুত।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের এখন কিছু সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে। এ ধরনের সহায়তা দিতে তুরস্কের কোনো আপত্তি নেই।
ফিদানের বক্তব্যের সময় সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আঙ্কারা বলছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলার ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই তুরস্ক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।
তবে তিন দেশের কথিত ‘মক্কা চুক্তি’ সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নাম ও কাঠামো নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। তাই চুক্তিটির নির্দিষ্ট ধারাগুলোকে চূড়ান্তভাবে উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
এর আগে শনিবার হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদ এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ অবশ্য রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে রিয়াদসহ কয়েকটি এলাকায় হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি স্থাপনা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার খবরও পাওয়া যায়।
হামলার সতর্কতা ও আগুনের ঘটনায় রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন ও সাময়িক স্থগিতের খবর পাওয়া গেছে। তবে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে—এমন দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা ও সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা পদক্ষেপের ফলে ইয়েমেন যুদ্ধের প্রভাব সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক বিমান চলাচলেও পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাতের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় সামরিক উত্তেজনা চলমান রয়েছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং তুরস্কের সামরিক সহায়তার প্রস্তাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তুরস্কের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আঙ্কারার ভূমিকা বাড়তে পারে। তবে কী ধরনের সহায়তা এবং কখন তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ফিদানের বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।