রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন স্পিকার
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বিনিয়োগ, করিডোর ও জ্বালানি ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে পৃথিবীর ইতিহাসে একটি ‘বিশেষ মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তাঁর ভাষ্য, এ সফরের মূল লক্ষ্য আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরা এবং জনগণের জন্য কাজ করা।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ও ফেরার জন্য এক দিন করে এবং মাঝের চার দিন মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরটি মোট ছয় দিনের। এই সময়ে একের পর এক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহদী আমিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেন, তারেক রহমানের জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়া তাঁদের পরিবারের সঙ্গে বিশ্ব সংস্থাটির একটি দীর্ঘ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বিএসএসের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত বিভিন্ন পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ওয়াল স্ট্রিট, মেটা ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিনিয়োগ, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।
মাহদী আমিন তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়; মানুষের জন্য কাজ। ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা।’ তিনি সফরটিকে শুধু বিদেশ সফর বা জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে না দেখে জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কথা ও সরকারের নীতি-পরিকল্পনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান একই সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।