শিশুদের গানের টানে লালমনিরহাটের নিভৃত গ্রামে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে শিশুদের লোকসংগীত ও লোকবাদ্যযন্ত্র চর্চা পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত।
ঢাকা: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের সম্পর্কের পেছনে মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করেছেন তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, টাকার লোভ দেখিয়ে মরিয়মকে ওই সম্পর্কে জড়ানো হয়েছিল এবং পরে তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়ের মরদেহ নেওয়ার অপেক্ষায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব অভিযোগ করেন মাসুম বিল্লাহ। তবে তাঁর এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক তৈরির পেছনে ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা ছিল। টাকার লোভ দেখিয়ে মরিয়মকে সম্পর্কে জড়ানো এবং পরে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
মেয়ের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল দাবি করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, মরিয়ম কখনো তাঁর কাছে কোনো বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেনি।
এদিকে মরিয়মের বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। সোমবার তাঁদের ঢাকার নিম্ন আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের রিমান্ড চেয়েছে।
মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকেও সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের বরাতে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর বয়স ১৯ বছর বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ছিলেন বলে পুলিশ ও মামলার নথিতে উঠে এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। মরিয়মের হাতে লেখা কয়েকটি চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলায় মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে আত্মহত্যা করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে; এখনো আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
এর আগে গত ২০ জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর পর গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের খবর প্রকাশিত হয়।
বর্তমানে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।