রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন স্পিকার
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বিনিয়োগ, করিডোর ও জ্বালানি ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয়: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৫ মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ ২৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
ফ্লাইটটি ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এ ছাড়া যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও ভাষণে উঠে আসবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন তিনি। সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনাতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি সাইড ইভেন্টেও তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণের পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন তিনি।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিট ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ ও তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের কর্মসূচি ও অন্যান্য বৈঠক শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশন বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।