লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী
জ্বালানি সংকটের মধ্যে রংপুরের লংমার্চে সাড়ে চারশো গাড়ি অংশ নেয় এবং এর কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
নারায়ণগঞ্জ: বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও দেশে আগের মতো খুন, সন্ত্রাস ও বিদেশে অর্থ পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রেজাউল করীম বলেন, আগের সরকারের সময়কার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা এখনো চলছে বলে তিনি মনে করেন। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান রেজাউল করীম। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ২০ আগস্ট রাতে জাহিদ আল আমিন বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ববিরোধ এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের বিষয়টি তদন্তে এসেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, শহীদ বুলবুলের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার অপরাধীদের শাস্তি দিতে কালক্ষেপণ করলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দেশে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান ও আইন শুধু সংসদে চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ প্রয়োগের আহ্বান জানান গাজী আতাউর রহমান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ দ্বীন ইসলাম।