লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী
জ্বালানি সংকটের মধ্যে রংপুরের লংমার্চে সাড়ে চারশো গাড়ি অংশ নেয় এবং এর কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঢাকা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে তা আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
মাহবুবা হাকিমের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে কমিশন তাঁর বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাছউদ। তিনি বলেন, কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকলে আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে মাহবুবা হাকিম আদৌ মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য অভিযোগ প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া মাহবুবা হাকিমের স্বাক্ষরিত হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এলএলএম, ব্যারিস্টার এট ল’ লেখা রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য ও তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
মাহবুবা হাকিম নিজেও জানিয়েছেন, আইন বিষয়ে তাঁর কোনো উচ্চতর ডিগ্রি নেই। তিনি বুটেক্স থেকে পড়াশোনা করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং হলফনামার সঙ্গে সেই সনদ জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।
হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যের সঙ্গে সনদের অসঙ্গতি কীভাবে তৈরি হলো—এ বিষয়ে মাহবুবা হাকিম বলেন, তাঁর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, পূরণ ও জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই দলীয়ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি শুধু পূরণ করা ফর্মে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানান।
এর আগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্য না বলে অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক বা টাইপজনিত ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, হলফনামা তৈরির সময় ব্যবহৃত আগের একটি ফরম্যাট থেকে ভুলবশত তথ্য কপি-পেস্ট হয়ে থাকতে পারে।
দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মাহবুবা হাকিমের প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ হলফনামার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। ফলে তাঁর প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন করার উদ্দেশ্য ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, মাহবুবা হাকিমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এলে কমিশন বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনা করবে। এ ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যও জানতে চাওয়া হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থাৎ, বর্তমানে মাহবুবা হাকিমের বিরুদ্ধে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগের কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি নির্বাচন কমিশন; অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছে কমিশন।