শিশুদের অধিকার ও সমতার বার্তা নিয়ে আজ মীনা দিবস
শিশুদের শিক্ষা, অধিকার, স্বাস্থ্য ও সমতার বার্তা নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মীনা দিবস। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম সম্প্রচারিত মীনা এখনও শিশুদের কাছে জনপ্রিয়।
কুমিল্লা: কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক কয়েকজন কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় হট্টগোল করে বের হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাদের কয়েকজন থানার সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে অভিভাবকেরা কয়েকজনকে ধরে থানায় ফিরিয়ে নিয়ে যান।
বুধবার সন্ধ্যার পর দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন আড্ডাস্থলে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সন্দেহে ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ। সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা ও বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে থানার একটি কক্ষের ভেতরে প্লাস্টিকের চেয়ার উল্টে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কক্ষটির দরজাও ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, থানার একটি কক্ষে আটকে রাখা কিশোরদের কয়েকজন চেয়ার ও দরজা ভাঙচুর করে সেখান থেকে বের হয়ে যায়। পরে তাদের একটি অংশ থানার সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়।
তবে পুলিশ বলছে, থানার কোনো কক্ষের দরজা বা আসবাব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক রেজুয়ানুল হক বলেন, আটক কিশোরদের থানাহাজতের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। একসঙ্গে ২৮ জন থাকায় সেখানে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল। তবে কোনো কক্ষের দরজা বা আসবাব ভাঙচুর হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আটক কিশোরদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত কোনো রেকর্ড নেই। তারা সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে আড্ডা দিচ্ছিল।
কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে অভিভাবক ও স্বজনেরা থানার ফটকের সামনে জড়ো হন। এ সময় সেখানে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে তাঁরা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরেরা থানার বাইরে চলে আসার পর তাদের কয়েকজনকে অভিভাবকেরা ধরে আবার থানায় নিয়ে যান। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিয়ে উত্তেজিত কিশোরদের অভিভাবক ও স্বজনদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানায়, পরে রাতে আটক কিশোরদের অভিভাবকদের ডেকে আনা হয়। সন্ধ্যার পর আড্ডাস্থলে না বসার বিষয়ে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, থানায় তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি একটি ভুল-বোঝাবুঝি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।