শিশুসাহিত্যের প্রিয় ছড়াকার আখতার হুসেন আর নেই
শিশুসাহিত্যিক ও ছড়াকার আখতার হুসেন ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন। প্রায় ছয় দশকের সাহিত্যজীবনে ছড়া, গল্প, গান ও শিশুতোষ গ্রন্থ রচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়কের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় স্বাস্থ্য সহকারী আউয়াল শফিকের (৪০) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাকিল খান (১৯) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের প্রায় তিন সপ্তাহ পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, আউয়াল শফিকের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায় হয়েছে, নাকি এর পেছনে হত্যাকাণ্ড রয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। গ্রেপ্তার শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সখীপুর-বাসাইল সড়কের নলুয়া বাজার এলাকায় আউয়াল শফিককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল চালানো এক যুবকের ছবি সংগ্রহ করে পুলিশ। ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর পরিচয় ও সন্ধান চেয়ে পুরস্কার ঘোষণাও করা হয়েছিল।
তদন্তের একপর্যায়ে ওই যুবক হিসেবে শাকিল খানকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে বুধবার রাতে তিনি থানায় যান। তবে তাঁর থানায় যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণের কথা বলা হলেও পুলিশ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে নলুয়া বাজারের কাছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর আউয়াল শফিক সড়কে পড়ে যান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা শাকিলের মোটরসাইকেল তাঁর ওপর দিয়ে চলে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে শাকিলও আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান। পরে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তবে শাকিলের পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য, শাকিলের দাবি অনুযায়ী আউয়াল শফিক প্রথমে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ঘেঁষা লেগে পড়ে যান। এরপর শাকিলের মোটরসাইকেলও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। পরে গণপিটুনির আশঙ্কায় শাকিল ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
ফলে আউয়াল শফিকের মৃত্যু দুর্ঘটনা, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনা জড়িত—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
আউয়াল শফিক সখীপুর উপজেলার বোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা এবং যাদবপুর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২ সেপ্টেম্বর নলুয়া-বাসাইল সড়কের পাশে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর তাঁর স্ত্রী তানিয়া আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
গ্রেপ্তার শাকিল বাসাইল উপজেলার বর্ণীকিশোরী গ্রামের কৃষক আতোয়ার খানের ছেলে। সম্প্রতি তিনি স্থানীয় একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পরই আউয়াল শফিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।