সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি
মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাই উদ্যোগের লক্ষ্য।
ঢাকা: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের অর্থ পাঁচগুণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জামানত ফেরতের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের হার বাড়ানো, নির্বাচনি ব্যয়সীমা পুনর্নির্ধারণ, নির্দলীয় প্রতীক সংরক্ষণসহ বেশ কিছু পরিবর্তন এনে ইউপি নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় অনিয়মের ক্ষেত্রে ইসির ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর সই করা সংশোধনীসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় জামানত ফেরতের শর্তও কঠোর করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আগে এ ক্ষেত্রে এক-অষ্টমাংশ ভোট পাওয়ার বিধান ছিল।
এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে। আগে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও সংশোধিত বিধিমালায় দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য পৃথক প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্যের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক রাখা হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদের প্রতীকগুলো হলো—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
সংরক্ষিত সদস্য পদের প্রতীক—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।
সাধারণ সদস্য পদের প্রতীক—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয়সীমা ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় কমিশনের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।
কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে গুরুতরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাও করতে পারবে ইসি।
নির্বাচনী কাজে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দেওয়ার বিষয়টিও সংশোধিত বিধিমালায় গুরুত্ব পেয়েছে। কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে নির্বাচনী কাজে বাধা দিলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন এসব বিধানের মাধ্যমে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আর্থিক শর্ত, প্রচারের ব্যয়সীমা এবং নির্বাচনী অনিয়ম মোকাবিলায় কমিশনের ক্ষমতায় পরিবর্তন আনা হলো।