সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি
মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাই উদ্যোগের লক্ষ্য।
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ১৭তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় তিন দিনব্যাপী এ কাউন্সিলের উদ্বোধন করা হয়। কাউন্সিল চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
‘শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হও; সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও দেশীয় দালালদের উৎখাত করো’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায় সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক সঞ্জিত প্রসাদ ভট্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য হেমা চাকমা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনে শ্রমজীবী এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বড় ধরনের আত্মত্যাগ ছিল।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি, বাক্স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা ছিল মানুষের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এসব আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যু এবং নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে দিলীপ রায় বলেন, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের অর্জিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি রাজনীতির মাঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, এসব দল সাধারণ ও মেহনতি মানুষের অধিকার নিয়ে যথেষ্ট কথা বলছে না।
তবে রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে দিলীপ রায়ের বক্তব্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে।
ফুলবাড়ী আন্দোলনের সংগঠক সঞ্জিত প্রসাদ ভট্ট বলেন, গণ–অভ্যুত্থান শুধু একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল না; শ্রমিক-কৃষকসহ সাধারণ মানুষেরও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের প্রত্যাশা ছিল।
তিনি দাবি করেন, দেশে বৈষম্য এখনো রয়েছে এবং কোথাও কোথাও তা নতুন রূপে ফিরে আসছে।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কাউন্সিল উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।