ঢাকা: দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। চুক্তির পর প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে ফ্রান্সের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
স্থানীয় সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমানের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে। অর্থাৎ উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতার পরিবর্তে দেশের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাঁদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তিকে বিমান বাংলাদেশের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ভবিষ্যতে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং বিদ্যমান রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মাহদী আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমান পরিবহন খাতের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজন হলে বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।