পিচ নেই, গর্তই গর্ত! বৃষ্টিতে বেহাল মতলব উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক
মতলব উত্তরের ফরাজীকান্দি-ছোটহলদিয়া সড়কের পিচ উঠে গিয়ে দেখা দিয়েছে বিশালাকার গর্ত, চরম ঝুঁকিতে যাতায়াতকারীরা।
ঢাকা: রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় সই করে আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার—এমন তথ্য আদালতকে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে আইনজীবী আলমগীর হোসেন আপসের বিষয়টি জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমঝোতার ৯ লাখ টাকা ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। নিহতের পরিবার আপসনামায় সই করে আসামিদের জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি না থাকার কথা জানিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, নিহত মেহেদী বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং কানে শুনতে পেতেন না। তাঁর মা-বাবা বয়স্ক হওয়ায় তাঁদের দেখাশোনার বিষয়টিও সমঝোতার সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান শান্তা মরিয়মের কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আপসনামা করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিহতের মামা ও ভাই এবং আসামিপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের পরিবারকে কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী দাবি করেন, পরিবারকে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, পরিবার ৯ লাখ টাকা গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসান মীমকে একটি প্রাইভেটকার চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর গাড়িতে থাকা কিশোর আজান আলী শরীফকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে চালকের আসন থেকে বের হতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারক নামে আরেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল। তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে চালকের আসনে থাকা কিশোরের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে আসামি করার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে মামলা করার আগ্রহ ছিল না এবং দুর্ঘটনার কারণে পুলিশই মামলা করেছে। তবে এসব বক্তব্য আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, এর স্বাধীন সত্যতা বা নিহতের পরিবারের পৃথক বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি আব্বাস আলী শরীফের পরিবারের বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত আপসনামা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করবেন।