কেউ কেউ ‘এক বনের এক বাঘ’ সাজতে চান: চাঁদপুরে এমপি ফরিদ আহম্মেদ মানিক
চাঁদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিতদের কড়া হুশিয়ারি দিলেন এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
পাঁচ দিনের অত্যন্ত ব্যস্ত, সফল ও অর্থবহ কূটনৈতিক অধ্যায় শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ককে বিদায় জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক বার্তা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পথ তুলে ধরার পর আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় (যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ১১টা) ঢাকার উদ্দেশে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।
ঢাকা ফেরার শেষ দিনেও প্রধানমন্ত্রী পার করেছেন ঠাসা ও ব্যস্ত কর্মসূচি। ব্যবসায়ী সংগঠন, বিনিয়োগকারী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সাথে একের পর এক বৈঠক করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে এক বিশেষ প্রাতঃরাশ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দিন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার বাংলাদেশে পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং বর্তমান ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন
“প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক দর্শন ও গৃহীত নীতিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, বাংলাদেশে এখনই বিনিয়োগের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় এবং এ দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় তাঁরা বিনিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।”
ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। পাশাপাশি কুয়েতের স্থায়ী মিশনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ শাবাহ খালেদ আল হামাদ আল সাবাহ এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি।
ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের (IPI) প্রেসিডেন্ট জায়াদ রায়াদ আল হুসেইনের সাথে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তি, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও সমসাময়িক সংকট মোকাবেলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার আগে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত সফরের তথ্য উপস্থাপন করা হয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানান, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, বাজেট সহায়তা, নতুন বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণহীনকরণ ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের বিষয়গুলো বিশ্বনেতাদের কাছে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক উত্তরণ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. হুমায়ুন কবির বলেন, বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে সৃষ্টি হওয়া গণতান্ত্রিক ঘাটতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আর কখনো দাসত্বে ফিরবে না। অপপ্রচার মোকাবেলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ড. সালেহ শিবলী স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় দেশের বিরুদ্ধে সকল দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও অপপ্রচার মোকাবেলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।