যারা একান্তই সুফীবাদে বিশ্বাসী তারা কখনো সমাজ কিংবা দেশের অস্থিতিশীল চায় না : আলমগীর সরকার
শাহসূফী শাহজাহান শাহ্ সাদুল্লাপুরীর ওফাত দিবসে মতলব উত্তর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরকারের বক্তব্য।
যশোর: যশোর-ঝিনাইদহ ছয় লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। অথচ ছয় বছর ধরে চলা প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি এখনো খুবই কম। যশোর অংশে কাজের অগ্রগতি প্রায় আড়াই শতাংশ এবং ঝিনাইদহ অংশে প্রায় ১১ শতাংশ। এর বড় অংশই জমি অধিগ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতিমূলক কাজে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
প্রকল্পের প্রায় ১৫ শতাংশ জমি এখনো অধিগ্রহণ বাকি। এর সঙ্গে সরকারি স্থাপনা অপসারণ, বিদ্যুৎ লাইন ও অন্যান্য ইউটিলিটি স্থানান্তরের জটিলতাও রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ নতুন করে তিন থেকে চার বছর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চারটি প্রধান লেন ও দুটি সার্ভিস লেনসহ মোট ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনায় ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। ৪৭ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ছিল ২ হাজার ৭৮৭ কোটি এবং সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
পরবর্তীতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় ২ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা বা প্রায় ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে।
প্রাথমিক হিসাবে প্রতি কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে গড় ব্যয় ছিল প্রায় ৮৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সংশোধিত ব্যয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া অগ্রগতির তথ্য অনুযায়ী, অবশিষ্ট সময়ে প্রকল্পের বড় অংশের কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। এ কারণে মেয়াদ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, প্রথম প্যাকেজে কাজের অগ্রগতি প্রায় ১১ শতাংশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্যাকেজে অগ্রগতি প্রায় আড়াই শতাংশ। জমি অধিগ্রহণ, স্থাপনা অপসারণ এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কারণে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকল্পের ডেপুটি প্রকল্প ম্যানেজার প্রকৌশলী আল মামুন মিয়া জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর যশোরের জেলা প্রশাসক ৫৩ দশমিক ৮৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন। আরও প্রায় ৬ একর জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে।
তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর বৈদ্যুতিক লাইন স্থানান্তর, বিভিন্ন স্থাপনা ও গাছ অপসারণ এবং অন্যান্য ইউটিলিটি স্থানান্তরের সমস্যাগুলো সমাধান হলে নির্মাণকাজের গতি বাড়বে।
প্রকল্প পরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে এতদিন প্রকল্পের অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি। এ পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে এবং এখন থেকে কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের হিসাবে অধিগ্রহণ করা জমির প্রায় ৭০ শতাংশের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। তবে অর্থ পরিশোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কতটুকু জমি ঠিকাদারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্যাকেজভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় দেখা গেছে, অনেক জায়গায় জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। কোথাও সড়কের অংশবিশেষ খুঁড়ে রাখা হয়েছে। আবার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কোথাও ইটের সোলিং করা হয়েছে।
ফলে বিদ্যমান সড়ক দিয়েই ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এতে সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ ও উঁচু-নিচু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবদুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মঞ্জুর হাসান বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর তাঁরা জমির কাগজপত্র বুঝে পেয়েছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। দখল বুঝে পাওয়ার পর কাজের গতি বাড়বে বলে জানান তিনি।
প্রকল্পের তিনটি লটের প্রকল্প ব্যবস্থাপক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়াই প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ার অন্যতম কারণ। চালু থাকা সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে সেটিকে ছয় লেনে উন্নীত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্ষা মৌসুম শেষ হলে পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। এ জন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
তবে প্রকল্প পরিচালক সাদিকুল ইসলামের ভাষ্য, সময়সীমা বাড়লেই প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।