নৌকায় নৌকায় বেচাকেনা, বৈঠাকাটার ভাসমান হাট যেন বাংলার ভেনিস
পিরোজপুরের নাজিরপুরের বৈঠাকাটার ভাসমান হাটে নৌকায় নৌকায় চলে কৃষিপণ্যের বেচাকেনা। সপ্তাহে দুই দিন বসা এই হাটে প্রতি হাটে প্রায় কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়।
ঢাকা: শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাঁকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই প্রশিক্ষক।
ঘটনাটি রোববার সকালে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে ঘটে। ভুক্তভোগী প্রশিক্ষকের নাম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষণ দেন এবং নিজেও নিয়মিত দৌড়ান। ঢাকার বিভিন্ন পার্কে ভোরবেলা দৌড়ের প্রশিক্ষণ করান তিনি।
ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সাজ্জাদ। ৫৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ‘জাকির’ নামের নেমপ্লেটধারী এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়।
ভিডিওতে সাজ্জাদ হোসেন হাফপ্যান্ট পরে স্টেশনে ঢুকতে না পারার কারণ জানতে চাইলে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, তাঁকে ‘শালীনতার সঙ্গে’ যেতে বলা হয়েছে এবং তাঁর পোশাক ‘পুরোপুরি শালীনতার মধ্যে পড়ে না’।
এরপর সাজ্জাদ জানতে চান, কোন পোশাক শালীন আর কোনটি শালীন নয়—এ বিষয়ে কোনো লিখিত নিয়ম আছে কি না। জবাবে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘এটা দেখা আমার দায়িত্ব।’
সাজ্জাদ হোসেনের ভাষ্য, সকালে রমনায় প্রশিক্ষণ করানোর পর ফার্মগেটে একটি কাজ ছিল। কাজ শেষে বিজয় সরণি যাওয়ার জন্য তিনি ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে যান। টিকিট কেটে স্টেশনে প্রবেশের সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাঁকে থামান।
তাঁর দাবি, ওই পুলিশ সদস্য তাঁকে বলেন, ‘অশ্লীল ড্রেস’ পরে মেট্রোতে ঢোকা যাবে না। সাজ্জাদ নিজেকে রানিং কোচ হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, প্রশিক্ষণ শেষে তিনি মেট্রোরেলে করে অন্য জায়গায় যাচ্ছেন। মেট্রোরেলে শর্টস পরা নিষিদ্ধ—এমন কোনো নিয়ম থাকলে তা দেখানোর অনুরোধও করেন তিনি।
সাজ্জাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা আরও দুই পুলিশ সদস্যও তাঁকে পোশাক পরিবর্তন করে ট্রাউজার পরার কথা বলেন। এমনকি শর্টস খুলে রেখে পরে ট্রাউজার পরে আসার কথাও তাঁকে বলা হয়। এভাবে তাঁকে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মেট্রোরেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো ড্রেস কোড নেই। পোশাকের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
সাজ্জাদ আরও অভিযোগ করেন, মেট্রোরেলের কন্ট্রোল বোর্ডের একজন নারী কর্মকর্তাও তাঁর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং তাঁর ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। পরে মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে মেট্রোরেলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে এমআরটি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান সাজ্জাদ হোসেন। তাঁর দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পর তাঁকে কোনো কপি দেওয়া হয়নি। অভিযোগের ছবি তুলতে চাইলেও তা করতে দেওয়া হয়নি।
সাজ্জাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা এবং প্রশাসনের একটি স্থাপনায় পোশাকের কারণে গণপরিবহনে উঠতে বাধা দেওয়া এক বিষয় নয়। তাঁর মতে, শর্টস পরে মেট্রোরেলে চলাচল নিষিদ্ধ হলে এর লিখিত নিয়ম দেখানো উচিত।
ঘটনা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, কোনো ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে আক্রান্ত করা হলে পুলিশের দায়িত্ব তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া। তাঁর মতে, পুলিশ সদস্যই যদি নিপীড়কের ভূমিকায় চলে যান, তাহলে বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর গণপরিবহনে যাত্রীদের পোশাক নিয়ে কর্তৃপক্ষ বা নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা এবং কোনো নির্দিষ্ট পোশাকবিধি না থাকলে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে যাত্রীকে বাধা দেওয়ার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।