বরিশালেও আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উদ্যাপন
বরিশালে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উদযাপিত, প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো মামুন খন্দকার।
কুমিল্লা: আইফোনের প্রতি লোভ এবং টিকটক তৈরির সুবাদে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা, নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া এবং কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার চাঞ্চল্যকর বিবরণ উঠে এসেছে।
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা গ্রামের নির্জন জঙ্গল থেকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাসা থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়েছিল। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপর দুই কিশোর গত ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত অপ্রতিমের একটি আইফোন ছিল। পাঁচ-ছয় মাস ধরে পরিচয়ের সুবাদে তার বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে করে ছবি তোলা ও টিকটক করার জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো। তুহিন ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত এক কিশোরের অপ্রতিমের আইফোনটির ওপর লোভ জন্মায়। ঘটনার এক সপ্তাহ আগেই আইফোনটি হাতিয়ে নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তুহিনের জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা করে টিকটক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয় এবং পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের দেখা হয়। এরপর তাকে বুদ্ধিমত্তায় সানন্দা পশ্চিমপাড়ার একটি নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অন্য কিশোররা উপস্থিত ছিল। চারজনে মিলে কিছু সময় আড্ডা দেওয়ার পর দোকানে কর্মরত কিশোরটি অপ্রতিমের কাছ থেকে ফোনটি হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ ব্যবহার করে তা তুহিনের হাতে দেয়।
ফোনটি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন অপ্রতিমকে থাপ্পড় মারেন এবং পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয়। আসামিরা জানিয়েছেন, আইফোনটি বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
হত্যাকাণ্ডের পর তুহিন তার বন্ধু মো. সিয়ামকে (১৯) সবকিছু খুলে বলেন। পুলিশ সিয়ামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। পুলিশের ধারণা, সিয়াম সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ না নিলেও বিষয়টি জানার পর তা গোপন করেছিলেন। নিহতের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িত অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।