তিন বছর বিয়ের ছবি প্রকাশ করেননি তাপসী
২০২৩ সালে ম্যাথিয়াস বোকে বিয়ের পর প্রায় তিন বছর বিয়ের ছবি প্রকাশ করেননি তাপসী পান্নু। ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখার কারণ জানিয়ে অভিনেত্রী বললেন, বিয়ে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।
বিনোদন: একসময় নাইজেরিয়ার সিনেমা মানেই ছিল কম বাজেট, দ্রুত নির্মাণ আর ঘরোয়া দর্শকের জন্য তৈরি ভিডিওচিত্র। বড় পর্দার সিনেমাহলের চেয়ে ভিসিআর, ভিসিডি কিংবা ডিভিডিই ছিল প্রধান ভরসা। কিন্তু সেই নলিউড এখন আফ্রিকার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম শক্তিশালী বাহক। শুধু তা-ই নয়, বছরে আড়াই হাজারের বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণে উৎপাদনসংখ্যার বিচারে নলিউড বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চলচ্চিত্রশিল্প—বলিউডের পরেই।
নাইজেরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সৃজনশীল অর্থনীতির মূল্য প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিনোদন খাতের প্রবৃদ্ধির হার বছরে প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্যও বলছে, ২০২৩ সালে সংগীতসহ নাইজেরিয়ার মিডিয়া ও বিনোদন খাত দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ১ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন নাইরা বা ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে।
আধুনিক নলিউডের উত্থানের সূচনাবিন্দু হিসেবে সাধারণত ১৯৯২ সালের ‘লিভিং ইন বন্ডেজ’-কে উল্লেখ করা হয়। এরপর সস্তা ডিজিটাল ক্যামেরা, সহজলভ্য নির্মাণপ্রযুক্তি এবং ভিডিওভিত্তিক বিতরণব্যবস্থা নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্রশিল্পকে দ্রুত সম্প্রসারিত করে।
নব্বইয়ের দশক ও ২০০০-এর দশকের শুরুতে নলিউডের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল গতি। একসময় সপ্তাহে প্রায় ৫০টি সিনেমা নির্মাণ হতো। বছরে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণের এই ক্ষমতা নলিউডকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত চলচ্চিত্র উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর একটিতে পরিণত করে।
তবে দ্রুত নির্মাণের এই মডেলের নেতিবাচক দিকও ছিল। সীমিত বাজেট, দুর্বল প্রযুক্তি, পুনরাবৃত্ত গল্প, পাইরেসি ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন সমালোচনা হয়েছে। ইউনেসকোর বিশ্লেষণেও আফ্রিকার চলচ্চিত্রশিল্পে অর্থায়ন, অবকাঠামো ও বিতরণব্যবস্থার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে।
গত দেড় দশকে নলিউডের চেহারায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি উন্নত ক্যামেরা, পোস্ট-প্রোডাকশন, পেশাদার প্রযোজনা এবং তুলনামূলক বড় বাজেটের কারণে নতুন ধরনের চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে।
ইউনেসকোর তথ্যমতে, ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে উচ্চমানের ও তুলনামূলক বড় বাজেটের ‘নিউ নলিউড’ সিনেমার উত্থান ঘটে। এসব চলচ্চিত্রের একটি অংশ সিনেমাহলেও মুক্তি পেতে শুরু করে। সফল হলে টিকিট বিক্রির পাশাপাশি টেলিভিশন, বিমান সংস্থা ও ভিডিও-অন-ডিমান্ডের মতো মাধ্যম থেকেও আয় করার সুযোগ তৈরি হয়।
ফলে নলিউডের একটি অংশ ধীরে ধীরে দ্রুত নির্মাণের পুরোনো মডেল থেকে বেশি পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক বাজারমুখী প্রযোজনার দিকে এগিয়েছে।
নলিউডের আন্তর্জাতিক বিস্তারে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নেটফ্লিক্স স্থানীয় নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর নাইজেরিয়ার গল্প ও নির্মাতারা আফ্রিকার বাইরেও নতুন দর্শক পেতে শুরু করেন। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওও নাইজেরিয়ার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে।
তবে এখন সেই সম্পর্কের ধরন বদলেছে। অ্যামাজন ২০২৪ সালে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় অরিজিনাল কনটেন্টে নতুন বিনিয়োগ কমিয়ে কার্যক্রম পুনর্গঠন করে।
নেটফ্লিক্সের ক্ষেত্রেও নাইজেরিয়ার অরিজিনাল প্রযোজনায় বিনিয়োগ কমেছে। তবে নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যান্ড ভিডিও সেন্সরস বোর্ড জানিয়েছে, নেটফ্লিক্স দেশটি থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি; বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে অরিজিনাল কনটেন্টে বিনিয়োগের গতি কমিয়েছে।
বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর বিনিয়োগ কমার জায়গাটি অন্য ডিজিটাল মাধ্যম দ্রুত পূরণ করছে। বিশেষ করে ইউটিউব নলিউডের নির্মাতাদের জন্য সহজলভ্য বিকল্প বিতরণব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।
এর বড় উদাহরণ ‘লাভ ইন এভরি ওয়ার্ড’। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ইউটিউবে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১০ লাখের বেশি এবং তিন দিনে ৫০ লাখের বেশি ভিউ পায়। ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, নলিউডের দর্শক শুধু সিনেমাহল বা বড় আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ইউটিউবের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক কম প্রবেশ-খরচ এবং সরাসরি দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ। ফলে ছোট ও মাঝারি বাজেটের নির্মাতারাও নিজেদের কনটেন্টের জন্য বড় দর্শক তৈরি করতে পারছেন।
নলিউডকে শুধু অনলাইন বা হোম-ভিডিওনির্ভর শিল্প হিসেবে দেখার সুযোগও এখন কমছে। ২০২৫ সালের Nigeria Box Office Yearbook অনুযায়ী, নাইজেরিয়া ও অ্যাংলোফোন পশ্চিম আফ্রিকার বাজারে সিনেমাহলের সংখ্যা বেড়ে ১২২টিতে এবং পর্দার সংখ্যা ৩৬৯টিতে দাঁড়িয়েছে। একই বছরে ২৪৮টি চলচ্চিত্র মুক্তি পায় এবং মোট দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৯৫ হাজার। মোট বক্স অফিস আয় ছিল ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন নাইরা।
২০২৫ সালে সিনেমাহলের এই সম্প্রসারণ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে সিনেমাহল ছিল ১০৭টি, পর্দা ছিল ৩৫২টি; ২০২৫ সালে তা বেড়ে যথাক্রমে ১২২ ও ৩৬৯ হয়েছে।
অর্থাৎ, বিপুলসংখ্যক চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি নলিউডের একটি অংশ এখন প্রেক্ষাগৃহের বাজারেও নিজের অবস্থান শক্ত করছে।
এখানেই নলিউডের সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। বছরে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি সিনেমা তৈরি হলেও সবগুলো সিনেমাহলে মুক্তির জন্য নির্মিত হয় না। নলিউড ঐতিহাসিকভাবে এমন একটি শিল্প, যেখানে একই চলচ্চিত্র একাধিক বিতরণব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে।
নলিউডের উত্থানই হয়েছিল ডিভিডি ও ভিসিডি-ভিত্তিক বিতরণের ওপর। নাইজেরিয়ার বিভিন্ন বাজার ও বিক্রয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিনেমার কপি সরাসরি দর্শকের হাতে পৌঁছাত। ইউনেসকোর তথ্যমতে, শুরুতে নলিউডের চলচ্চিত্রগুলো দেশজুড়ে শক্তিশালী রাস্তার বিক্রয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডিভিডি ও ভিসিডিতে বিক্রি হতো। পরবর্তীতে সেগুলো অনলাইন ও টেলিভিশনেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
টেলিভিশন নেটওয়ার্কও নলিউডের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বাজার। নাইজেরিয়ার তৈরি চলচ্চিত্র আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের টেলিভিশন দর্শকের কাছেও পৌঁছেছে। ফলে সিনেমাহলের সীমিত পর্দা সংখ্যার বাইরে বিশাল দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ইউটিউব এই মডেলকে আরও সহজ করেছে। নির্মাতারা নিজেদের বা অংশীদার চ্যানেলের মাধ্যমে সিনেমা প্রকাশ করে বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য ডিজিটাল আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। ‘লাভ ইন এভরি ওয়ার্ড’-এর সাফল্য এই মডেলের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের জন্য নেটফ্লিক্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি স্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, আইরোকো টিভি ও শোম্যাক্সকে নাইজেরিয়ার ডিজিটাল কনটেন্ট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নলিউডের আরেকটি বড় শক্তি এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। ইংরেজির পাশাপাশি ইয়োরুবা, ইগবো, হাউসা এবং অন্যান্য স্থানীয় ভাষায় সিনেমা তৈরি হয়। পারিবারিক সম্পর্ক, প্রেম, ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক দ্বন্দ্ব, স্থানীয় সংস্কৃতি ও আফ্রিকান জীবনযাপন—সবই এসব সিনেমার গল্পে উঠে আসে।
এ কারণে নলিউড শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বিশ্বের দর্শকের কাছে নাইজেরিয়ার সমাজ ও সংস্কৃতির একটি জানালাও হয়ে উঠেছে।
আফ্রিকার সিনেমা নিয়ে ইউনেসকোর বিশ্লেষণেও ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা চলচ্চিত্রশিল্পকে মহাদেশটির সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে।
সাফল্যের পাশাপাশি নলিউডের সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। পর্যাপ্ত সিনেমাহলের অভাব, নির্মাণ ব্যয়, পাইরেসি, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, মানসম্মত অবকাঠামোর ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক বিতরণব্যবস্থার জটিলতা শিল্পটির দীর্ঘদিনের সমস্যা।
ইউনেসকো বলছে, আফ্রিকার চলচ্চিত্র ও অডিওভিজ্যুয়াল খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি এবং শিল্পটি কাঠামোগতভাবে অর্থায়নের ঘাটতি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও অবমূল্যায়নের সমস্যায় ভুগছে।
নাইজেরিয়াতেও সিনেমাহলের সংখ্যা বাড়লেও দেশটির বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় তা এখনো সীমিত। ফলে প্রেক্ষাগৃহের বাইরে দর্শক পৌঁছানোর বিকল্প মাধ্যমগুলো নলিউডের জন্য অপরিহার্য হয়ে আছে।
হলিউডের বিপুল বাজেট কিংবা বলিউডের তারকানির্ভর মডেল অনুসরণ না করে নলিউড মূলত স্থানীয় গল্প ও স্থানীয় দর্শককে কেন্দ্র করে নিজের বাজার তৈরি করেছে। সেই বাজারের ওপর দাঁড়িয়েই এখন আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছাচ্ছে নাইজেরিয়ার সিনেমা।
নলিউডের সবচেয়ে বড় সাফল্য তাই শুধু বছরে আড়াই হাজারের বেশি সিনেমা নির্মাণে নয়। সীমিত সম্পদে বিপুল দর্শক তৈরি করা, ডিভিডি থেকে স্ট্রিমিং—প্রযুক্তির প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং আফ্রিকান সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক বিনোদন বাজারে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাই এই শিল্পকে আলাদা করেছে।
বর্তমানে নাইজেরিয়ার সৃজনশীল অর্থনীতির মূল্য প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং নলিউড বছরে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি চলচ্চিত্র তৈরি করছে। ফলে নলিউড এখন শুধু নাইজেরিয়ার একটি চলচ্চিত্রশিল্প নয়; আফ্রিকার বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাহন।