একনেকে ১,২৭৬ কোটি টাকার ‘এফএসএসপি-২’ অনুমোদন; ব্যাংক খাতের সংস্কার ও সুরক্ষায় বড় প্রকল্প
ব্যাংক খাতের তদারকি ও সুরক্ষা বাড়াতে ১,২৭৬ কোটি টাকার ‘এফএসএসপি-২’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। ১৫,৮২৩ কোটি টাকার মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদিত।
ঢাকা: বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন এবং বিমান টিকিট থাকার পরও প্রাপ্তবয়স্ক নারী যাত্রীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তিন রিট আবেদনকারীর অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিন নারীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত পরবর্তী বিদেশযাত্রায় আবেদনকারীদের অযথা বাধা না দেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটে বলা হয়, তিন আবেদনকারীর কারও বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তাঁদের বৈধ পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন এবং বিমান টিকিট থাকার পরও বিমানবন্দর থেকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের দাবি, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত কি না, তাঁর বাবা-মা বা কোনো অভিভাবক সঙ্গে আছেন কি না—এসব বিষয় এককভাবে বৈধ বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।
হাইকোর্ট ইমিগ্রেশন পুলিশকে আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে এ বিষয়ে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলেছেন।
একই সঙ্গে আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
এ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় কেবল অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করা কিংবা অনুরূপ লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তার প্রশ্ন তোলে। একই সঙ্গে ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদে থাকা চলাফেরার স্বাধীনতার বিষয়ও এতে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত আইজিপি, পুলিশ সদর দপ্তর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুঁই।
হাইকোর্টের রুলের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।