২৩৫ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা: জিএম বরখাস্ত
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের জিএমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মোহাম্মদ হৃদয় (১৬) নামের এক কিশোরকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইতিমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নগরের খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ হৃদয় স্থানীয় ওয়্যারলেস কলোনি বাজারে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত হৃদয় নিজেও ওই স্থানীয় কিশোর গ্যাংটির সঙ্গে জড়িত ছিল। কিছুদিন আগে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এই ক্ষোভের জেরে মঙ্গলবার রাতে তাকে বাসা থেকে ডেকে রাস্তায় আনা হয়। এরপর অত্যন্ত নির্মমভাবে প্রথমে তার কান কেটে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে শরীরে ছুরিকাঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদয়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম গণমাধ্যমকে জানান, বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা সবাই একই এলাকার এবং স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগা এই কিশোর গ্যাংটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। মূলহোতা ওয়াকিলকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরে বর্তমানে প্রায় ২০০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। একেকটি দলে ৫ থেকে ১৫ জন সদস্য থাকলেও পুরো নগরজুড়ে এ ধরনের গ্যাংয়ের মোট সদস্যসংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪০০। এসব গ্যাংয়ের পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৬৪ জন ‘বড় ভাই’ বা পৃষ্ঠপোষক জড়িত রয়েছেন। গত ৬ বছরে অন্তত ৫৪৮টি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এসব কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক জরিপে উঠে এসেছিল যে, স্কুলগুলোতে অনুপস্থিত থাকা ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে এসব কিশোর মাদক সেবন ও কেনাবেচা, ছিনতাই, চুরি, পর্নোগ্রাফি, সাইবার অপরাধ এবং অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা বর্তমান সমাজে এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।