কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হলো ‘পেরেন্টাল কন্ট্রোল’ ফিচার
কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন সুরক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে এলো ‘পেরেন্টাল কন্ট্রোল’ ফিচার। ব্যক্তিগত প্রাইভেসি বজায় রেখে মা-বাবারা করতে পারবেন তদারকি।
তথ্যপ্রযুক্তি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দৌড়ে নতুন এক যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেছে প্রদেয় সার্চ জায়ান্ট গুগল। প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জেমিনি ৪ আর্গন’ (Gemini 4 Argon) নামে তাঁদের সর্বাধুনিক ও এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেল উন্মোচন করেছে।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট (Alphabet) জানিয়েছে, মডেলটি জটিল কোডিং, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা, সৃজনশীল লেখালেখি এবং উচ্চমানের প্রকৌশল-সংক্রান্ত কাজ সম্পাদনের জন্য বিশেষ প্রকৌশলে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামূলক সাইবার নিরাপত্তা (Defensive Cybersecurity) ক্ষেত্রে এর অভূতপূর্ব সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
গুগল নিশ্চিত করেছে, জেমিনি ৪ আর্গন মডেলটি আপাতত তাঁদের বিশেষ নিরাপত্তা উদ্যোগ ‘ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রাম’-এর (Fairwind Program) আওতায় নির্বাচিত কিছু বিশ্বস্ত সাইবার নিরাপত্তা অংশীদারের জন্য সীমিত পরিসরে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
মডেলটি প্রতিরক্ষামূলক সাইবার কার্যক্রমে পারদর্শী করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা যেকোনো জটিল সফটওয়্যারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্বলতা (Vulnerabilities) স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত, যাচাই এবং তাৎক্ষণিক সংশোধন করতে সক্ষম।
নিরাপত্তাজনিত কারণে এটি এখনই সাধারণ ব্যবহারকারী বা বিশ্বব্যাপী ডেভেলপারদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।
প্রস্তুতকারক গুগল / অ্যালফাবেট (Alphabet Inc.)।
প্রধান ক্ষেত্র জটিল কোডিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স ও সাইবার সিকিউরিটি।
বিশেষ প্রোগ্রাম ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রাম (গুগলের সিকিউরিটি পার্টনারদের জন্য)।
উদ্ভাবনী সক্ষমতা কোড ডিবাগিং, দীর্ঘ ভিডিও ও চার্ট বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার মাইগ্রেশন।
প্রতিযোগী মডেল ওপেনএআই-এর GPT-6 Astra এবং অ্যানথ্রপিকের Fable ও Opus।
গুগলের ভাষ্যমতে, জেমিনি ৪ আর্গন ইতোমধ্যে তাঁদের নিজস্ব সফটওয়্যার উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত পরিচালনা কাঠামোতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। গুগলের প্রকৌশলী ও কর্মীরা দৈনন্দিন কাজ, জটিল সফটওয়্যার ডিবাগিং এবং বিশাল কোডবেস স্থানান্তরের (Codebase Migration) কাজে নিয়মিত মডেলটি ব্যবহার করছেন।
এছাড়াও এটি দীর্ঘ ভিডিও ফাইল ও জটিল চার্টে উপস্থাপিত ডেটার মতো ভিজ্যুয়াল উপাত্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। দীর্ঘমেয়াদি কর্মপ্রবাহেও এর গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকে।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জেমিনি ৪ আর্গন এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গুগল দাবি করেছে, বিভিন্ন নিরপেক্ষ বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় তাঁদের নতুন মডেলটি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর (OpenAI) ‘জিপিটি ৬ এস্ট্রা’ (GPT-6 Astra) এবং অ্যানথ্রপিকের (Anthropic) ‘ফ্যাবল’ ও ‘ওপাস’ মডেলকে পেছনে ফেলেছে।
এমনকি আন্তর্জাতিক এআই মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভালস’ (Vals)-এর গ্লোবাল মডেল সূচকেও বর্তমানে শীর্ষ স্থানটি দখল করে নিয়েছে জেমিনি ৪ আর্গন। জেমিনি ইকোসিস্টেমের এই ধারাবাহিক সম্প্রসারণ এআই বাজারে গুগলের অবস্থানকে আরও শক্ত ও সুসংহত করল।