শিক্ষা: বিভাগের নাম পরিবর্তনসহ দুই দফা দাবিতে ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদালয়ে (জাককানইবি) আন্দোলন জোরদার করেছেন ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পূর্ণ বর্জন করে বিভাগের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে তারা বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে গতকাল বুধবারও একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের মূল আন্দোলন গড়ে উঠেছে মূলত দুই দফা দাবিকে কেন্দ্র করে। বর্তমান ‘ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ’ নাম পরিবর্তন করে ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম’ নামকরণ করতে হবে। বিভাগটিকে বর্তমান কলা অনুষদ থেকে সরিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা প্লাকার্ড প্রদর্শন করে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করেন ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসলেও একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আগামী সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র করছে।
১ নম্বর দাবি বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম’ রাখা।
২ নম্বর দাবি কলা অনুষদ থেকে বাদ দিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তর।
পেছনের যুক্তি কারিকুলামে কমিউনিকেশন থাকলেও নামে না থাকায় চাকরিতে জটিলতা ও বৈষম্য।
বর্তমান স্থিতি ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন ও বিভাগে তালা ঝুলানো।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের বিভাগের সিলেবাস ও পাঠ্যক্রমে ‘কমিউনিকেশন’ এবং মিডিয়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিভাগের নামের সাথে ‘কমিউনিকেশন’ শব্দটি নেই। এর ফলে চাকরির বাজারে এবং পেশাগত পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে চরম বিড়ম্বনা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এছাড়া ফিল্ম, মিডিয়া ও গণযোগাযোগের বিষয়গুলো সরাসরি সমাজবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত। দেশের অন্যান্য স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের বিভাগগুলো ‘সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের’ অধীনে থাকলেও জাককানইবিতে ভুলবশত এটি কলা অনুষদের অধীনে রাখা হয়েছে, যা তাদের একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে বাঁধা তৈরি করছে।
এ বিষয়ে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক জিল্লুর রহমান পল বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে ইতোমধ্যে সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।”
“বিষয়টি চূড়ান্ত করার ক্ষমতা একমাত্র সিন্ডিকেটের, আমার একক সিদ্ধান্তে এটি করার সুযোগ নেই। বিভাগে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করা কোনো সমাধানের পথ নয়। আগামী শনিবার (৩ অক্টোবর) সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সুতরাং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্মারকলিপি দেওয়ার পর বিভাগের ১২৯তম একাডেমিক কমিটিতে এটি অনুমোদিত হয়। এরপর গত নভেম্বর মাসে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি নাম ও অনুষদ পরিবর্তনের পক্ষে প্রাথমিক সুপারিশ প্রদান করে। আগামী ৩ অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভার দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন আন্দোলনেরত শিক্ষার্থীরা।