আইনজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: এমপি শাহাদাত সেলিম
আইনজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন এক আইনজীবী।
ঢাকা: জাতীয় সংসদের বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে একাধিক সংসদ সদস্যের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং এর জেরে নেওয়া নানা পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নৈতিক স্খলন, ফৌজদারি অপরাধ কিংবা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ, কারাবাস বা পদ হারানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে অতীতেও সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়া কিংবা বহিষ্কৃত হয়েও পদে বহাল থাকার বেশ কিছু আলোচিত নজির রয়েছে।
সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের আসন কোন কোন কারণে শূন্য হতে পারে, তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শপথ গ্রহণে ব্যর্থতা, সংসদের অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিতি, আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বা দেউলিয়া ঘোষিত হওয়া, বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জন অথবা নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া। এ ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন তাৎক্ষণিকভাবে শূন্য হয়ে যায়।
মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল: ২০২০ সালে কুয়েতে মানব পাচার ও ভিসা-বাণিজ্যের অভিযোগে কুয়েতের আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পর ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর লক্ষ্মীপুর-২ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। বিদেশের মাটিতে কোনো সংসদ সদস্যের ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হয়ে পদ হারানোর এটিই প্রথম ঘটনা।
মহীউদ্দীন খান আলমগীর: ‘ওয়ান–ইলেভেন’-এর সময় বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হওয়ায় ২০১০ সালে আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তাঁর চাঁদপুর-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছিল।
মেজর (অব.) জসিমউদ্দিন: সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়ার আইনি অযোগ্যতার কারণে উচ্চ আদালতের রায়ে ভোলা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের পদ অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
সংবিধানে সরাসরি বিধান না থাকায় রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করলেই কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না; এ ক্ষেত্রে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয় থাকে। অতীতে এর বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে:
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও জাহিদুর রহমান: ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়ার পর গণফোরাম ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও তাঁরা তাঁদের মেয়াদ পূর্ণ করেন।
এইচ এম গোলাম রেজা ও আবু হেনা: যথাক্রমে ২০১২ এবং ২০০৫ সালে জামায়াত ও দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও স্পিকারের সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কারণে তাঁদের সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্যদের আচরণ ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার এসব সমীকরণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংসদীয় রাজনীতির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।