শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না: ত্রিবেদী
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত গমন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
কুমিল্লা: কুমিল্লা নগরের ত্রাস ও আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ (আর স্কোয়াড)’-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার রাতে নগরের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার সকালে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, রতনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে নিয়ে রাতভর নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয় এবং আজ সকালেও তা অব্যাহত ছিল। অভিযান শেষে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
ইমরান হোসেন ওরফে রতনের নেতৃত্বে কুমিল্লা নগরে আধিপত্য বিস্তার, মারামারি, অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার বহু অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট নগর উদ্যানের সামনের সড়কে শাহাদাত হোসেন নামের এক কিশোরকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে নাম আসে এই রতনের। এছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সার্কিট হাউস মোড়ে রতন ও ইগল গ্রুপের সংঘর্ষ এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আদালতপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র মহড়ার পর যৌথ বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল।
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লায় জোরালো কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানের মধ্যেই গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি রাজনৈতিক মিছিলে গ্যাং লিডার রতনের উপস্থিতির একটি ভিডিও এবং পরবর্তীতে গত বুধবার কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের সঙ্গে রতনের ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানার পুলিশ ও ডিবি একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী পঞ্চম দফার সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এই অভিযানে মোট ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান। তিনি জানান, আটকদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।