শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না: ত্রিবেদী
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত গমন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
ঢাকা: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ সংকট ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কয়েকমাস আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়া এই নেতার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুনির্দিষ্ট দাবিতে কটিয়াদীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা।
গত শুক্রবার রাতে কটিয়াদীর গচিহাটা বাজারে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ও চান্দপুর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষও অংশ নেন। এছাড়া আজ শনিবার বিকেলে কটিয়াদী উপজেলা শহর এবং সন্ধ্যায় জেলা শহরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোজাম্মেল হক জোয়াদ্দার দাবি করেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরে নানা হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন এবং আখতারুজ্জামান সকলের পক্ষ হয়েই এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও জোরালো করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
এদিকে আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে বিএনপি ও বামপন্থী দলগুলো। কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, আখতারুজ্জামান অনেক সময় ভালো কথা থাকলেও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন, যা কাম্য নয়। তিনি বলেন, “দেশে এখন আইনের শাসন চলছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আমরা চাই, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক।”
একই সুর শোনা গেছে স্থানীয় বাম নেতাদের গলাতেও। কটিয়াদীর স্থানীয় বাসিন্দা ও সিপিবির কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। বিমানবন্দরের ঘটনার সঠিক ফয়সালা আইনি পথেই হওয়া উচিত। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি অংশের মতে, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদের পক্ষেই ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এর পরদিন শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির টিকিটে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।