স্বাস্থ্য

উত্তরাঞ্চলের হৃদ্‌রোগ চিকিৎসায় বিপ্লব

বগুড়া: একসময় হৃদ্‌রোগের জটিল চিকিৎসার জন্য উত্তরাঞ্চলের রোগীদের প্রধান ভরসা ছিল রাজধানী ঢাকা। তবে সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে বগুড়াতেই হৃদ্‌রোগের উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পেসমেকার স্থাপন থেকে শুরু করে বাইপাস সার্জারির মতো জটিল অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা টিএমএসএস হার্ট সেন্টার এই চিকিৎসাসেবায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

বগুড়া সদরের ঠেঙ্গামারা এলাকায় ২০ তলা বিশিষ্ট টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে ২০০৫ সালে বহির্বিভাগ চালুর মধ্য দিয়ে টিএমএসএস হার্ট সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। গত দুই দশকে এটি ক্যাথল্যাব, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি এবং কার্ডিয়াক সার্জারির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মজিবর রহমান সেলিম জানান, এ পর্যন্ত হার্ট সেন্টারে ১৭৮টি সফল কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে ১৭৫ শয্যার এই হার্ট সেন্টারে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৭৭ জন রোগী বহির্বিভাগ থেকে এবং ৩৮ হাজার ৯৩৬ জন ইনডোরে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। ঢাকার তুলনায় প্রায় অর্ধেকে খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় বগুড়া ও আশপাশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা এখানে ছুটে আসছেন।

অন্যদিকে, দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের আস্থার প্রতীক সরকারি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগেও প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন শত শত রোগী। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হৃদ্‌রোগী এখান থেকে সেবা নিয়েছেন।

তবে ১ হাজার ৬০০ শয্যার এই হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে অনুমোদিত শয্যা মাত্র ৪৫টি হলেও প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। এছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে অধ্যাপকের পদ খালি থাকা এবং অপর্যাপ্ত জনবলের কারণে চিকিৎসকদের তিন পালায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগীর অনুপাতে চিকিৎসক ও শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও রোগীরা। উত্তরাঞ্চলের এই চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়লে ঢাকামুখী রোগীর চাপ আরও অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related News

হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১০৮

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৭ এবং নিশ্চিত হামসহ মোট মৃত্যু ১ হাজার ১০৮ জন।

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৮

দেশে ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৯৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৯ জন।

ডেঙ্গু কেড়ে নিল চিকিৎসক দম্পতির সাজানো সংসার

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিয়ের দেড় বছরের মাথায় মারা গেছেন চিকিৎসক আঁচল রায়। ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে তাঁর ও স্বামী বিপ্লবের সাজানো সংসারের সব স্বপ্ন।

মিরপুরে ভাঙচুর হওয়া রাড্ডা সেন্টারের ভাঙা কক্ষেই শুরু হলো স্বাস্থ্যসেবা

হামলার শিকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ভাঙা কক্ষেই টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা শুরু হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে শিশু ও মায়েরা।

ডেঙ্গু বাড়ছে অভয়নগরে, মশক নিধন কার্যক্রম কোথায়?

যশোরের অভয়নগরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, মশক নিধন কার্যক্রম না থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

হামের টিকাদানে চার বছরের ঘাটতি, ‘খেসারত দিচ্ছে সরকার’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ ঘাটতির কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দ্বিতীয় দফায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য।

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৩৪৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪৯ জন।

Search