রিমান্ডে সত্যতা স্বীকার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের
শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা স্বীকার করেছেন জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। অপরাধ সংবাদ।
ঢাকা:
বাংলাদেশ কোনো অধীনস্থ ভূখণ্ড বা কারও ‘পিছনের উঠান’ নয় উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমরা আধিপত্য চাই না, সংঘাতও চাই না; বরং সমতার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং ন্যায্য প্রতিবেশী সম্পর্ক চাই। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোনো ‘বড় ভাই–ছোট ভাই’ সম্পর্কের ভিত্তিতে হতে পারে না, তা হতে হবে দুই সার্বভৌম প্রতিবেশীর সমান মর্যাদার সম্পর্ক।
রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভারতের ভূমিকা ও আত্মসমালোচনার প্রশ্ন:
পোস্টে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার (অথবা দীনেশ ত্রিবেদীর) সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়াকে ভারত ‘প্রতিবেশীর দায়িত্ব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও গত এক দশকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ভারত কখনো আত্মসমালোচনা করবে কি না, সেই প্রশ্নটি থেকেই যায়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত ব্যাপক দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশীর দায়িত্ব কি শুধু ক্ষমতাচ্যুত শাসককে আশ্রয় দেওয়া, নাকি প্রতিবেশী দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা?
সীমান্ত হত্যা ও মানবাধিকার প্রসঙ্গ:
সীমান্তে প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন বলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই সীমান্ত সহিংসতায় আরও ১০ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০২৬ সালে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বাঙালি বাসিন্দাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বহু ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকার রক্ষা এবং নিরস্ত্র মানুষের জীবন রক্ষায় ভারত কেন তার দায়িত্ব পালন করছে না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ন্যায্য হিস্যা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি:
বাংলাদেশ কখনোই ভারতবিরোধী কোনো রাষ্ট্র হতে চায় না উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা চাই সমতার ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক—যেখানে বন্ধুত্ব, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকবে, তবে তার ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্য স্বার্থ।” গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি নদীর ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যে ভারসাম্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত প্রভাব বন্ধের দাবি জানান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মানই হতে পারে টেকসই প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি।