ঢাকা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা বা মৃত্যুদণ্ড দাবি করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম গণমাধ্যমকে বলেন, “মামলা শেষ হওয়ার পর আমরা কিছু অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হয়েছে এবং আমরা চার আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করেছি।”
মাহবুবউল আলম হানিফের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনের সরকারি সিদ্ধান্ত শুধু মেনে নেননি, বরং অধীনস্থদের মাধ্যমে সবকিছু বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি একজন বেসামরিক নেতা (সিভিলিয়ান লিডার) হিসেবে কুষ্টিয়ার তৎকালীন এসপি, জেলা-উপজেলা চেয়ারম্যান এবং দলীয় নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশ দিয়ে এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন। সেই টেলিফোন কথোপকথনের অডিও রেকর্ডসহ অকাট্য প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন উল্লেখ করে হানিফও একই ধরনের শাস্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রসিকিউটর।
এই মামলায় মাহবুবউল আলম হানিফ ছাড়াও অন্য অভিযুক্ত তিনজন হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার চার আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ নভেম্বর এই চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।