অভয়নগরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের চরম সংকট, নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি
যশোরের অভয়নগরে বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নওয়াপাড়ার বাসিন্দা ও হোটেল ব্যবসায়ীরা।
বাণিজ্য: কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রা, পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস আর ঝটপট রান্নার সুবিধার ওপর ভর করে দেশে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের অন্যতম জনপ্রিয় উপাদান নুডলসের বাজার। বর্তমানে দেশের প্যাকেটজাত, কাপ ও প্রিমিয়াম নুডলসের এই বিশাল বাজারের আকার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ছুঁইছুঁই করছে।
আজ বিশ্ব নুডলস দিবস। স্কুলের টিফিন বক্স, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের কক্ষ, অফিসের ডেস্কে কিংবা ব্যস্ত বাসার রান্নাঘর—সবখানেই এখন নুডলসের সহজ উপস্থিতি। অল্প সময়ে তৈরি ও সহজে পেট ভরার সুবিধার কারণে এটি এখন সব বয়সি মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মর্ডর ইন্টেলিজেন্স’-এর সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে নুডলসের বাজার ২০২৫ সালে ছিল ১০২ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার। প্রতিবছর ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি ধরে প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে এই বাজারের আর্থিক আকার বেড়ে দাঁড়াবে ১১০ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলারে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে তা ১৫৭ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তথ্যমতে, পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে এ বাজারের আকার ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। মহামারির সময়ে গৃহবন্দী মানুষের বাড়তি চাহিদায় এই প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে দেশের দুই-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করছেন। ব্যস্ত ও দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় স্ন্যাকস বা ফাস্ট ফুডের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে প্রতিদিন। কর্মজীবী মা-বাবাদের জন্য সন্তানের টিফিন তৈরি বা অফিসফেরত ক্লান্ত শরীরে ঝটপট মুখরোচক খাবার তৈরির সহজ সমাধান হিসেবে নুডলস দারুণ জনপ্রিয়। এছাড়া সুপারমার্কেট, ই-কমার্স ও পাড়ার খুচরা দোকানে বাহারি ফ্লেভারের উপস্থিতি এবং কাপ নুডলসের জনপ্রিয়তা এই বাজারকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
ইনস্ট্যান্ট নুডলসের বাজারে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নেস্লের ব্র্যান্ড ‘ম্যাগি’ এখনো বাজারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ দখল করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে প্রাণের ‘মি. নুডলস’, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ‘ফ্রেশ’, কোকোলা, স্কয়ারের ‘চপস্টিক’ ও ইফাদের ‘এগি’ বাজারে বৈচিত্র্যময় ফ্লেভার নিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
এমজিআইয়ের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) কাজী মো. মহিউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, “দেশের নুডলসের বাজার অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও ক্রমবর্ধমান। শহুরে ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং তরুণ প্রজন্মের দ্রুত প্রস্তুত করা খাবারের চাহিদা এই বাজারকে এগিয়ে নিচ্ছে। ভোক্তারা এখন দামের পাশাপাশি মান, নিরাপত্তা ও বৈচিত্র্যকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।”
মূল্যস্ফীতির কারণে কাঁচামাল, প্যাকেজিং ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তবে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষ সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে এর ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের নুডলসের চমৎকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পাস্তা, স্পেগেটি, ম্যাকারনি ও নুডলস রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৮ লাখ ডলার (পূর্ববর্তী অর্থবছরে যা ছিল ৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার)। প্রবাসী বাঙালি ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে সাশ্রয়ী এশীয় খাবারের ক্রমবর্ধমান কদর কাজে লাগিয়ে সামনে এই খাতের রপ্তানি আরও বহুদূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।